রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি বাসুদেব রায়কে পিটিয়ে পা ভেঙে দিয়েছে ছাত্র লীগের কয়েকজন সদস্য। এছাড়াও নাজমুল হাসান নামের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম করেছে ছাত্রলীগের দুই কর্মী ও সহযোগীরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ও বুধবার সকালে এই দুটি ঘটনা ঘটে।
এদিকে বাসুদেবের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাবি সাংস্কৃতিক জোট ও প্রগতিশীল ছাত্র জোটের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে বুধবার উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। ঘটনার জেরে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের সমর্থক নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে টিএসসিসির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও মনোবিজ্ঞানের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী বাসুদেব রায় স্টেডিয়াম মার্কেটের সিলসিলা রেস্তোরা সংলগ্ন গণশিল্পী সংস্থার কার্যালয়ে গিয়ে একটি জানালা খুলেন। তখন ওই জানালার পাশে রাখা একটি টেবিলে আড্ডা দিচ্ছিলেন ছাত্রলীগ কর্মী ও আইন তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাদ্দাম হোসেন সজীব ও তার সহযোগীরা। সজীব, বাসুদেবকে জানালাটি বন্ধ রাখতে বলেন। কিন্তু বাসুদেব সিলসিলার কর্মচারীদের ওই জানালার পাশের টেবিল সরিয়ে দিতে বলেন।
এ নিয়ে তর্কের জেরে সজীব ও সহযোগীরা কাঠের লাকড়ি দিয়ে পিটিয়ে বাসুদেবের ডান পা ভেঙ্গে দেয় এবং বাম পা জখম করে। তাকে রাতেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অন্যদিকে বুধবার সকাল ১০টায় বান্ধবীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় আরেক ছাত্রলীগ কর্মী ও আরবি চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রেজাউল করিম রাজু শহীদুল্লাহ কলাভবনের তৃতীয় তলায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসানকে বেধড়ক মারপিট করে। আহত নাজমুলের জানায়, ক্লাসরুমের সামনে বান্ধবীদের নিয়ে পানি পানের সময় রাজু তার এক বান্ধবীকে উত্যক্ত করে। প্রতিবাদ করলে তাকে কিল-ঘুষি মারে।
তবে রাজু উত্যক্তের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ‘ছাত্রশিবির সন্দেহে নাজমুলকে ডাকলে সে সামনে এসেই দুর্ব্যবহার করে। এজন্য তাকে দুই-চারটা চড়-থাপ্পড় দিয়ে শাসন করেছি।
রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা বলেন, ‘হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ তবে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খালিদ হাসান বিপ্লব দাবি করেন, ‘ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় কতিপয় নেতাকর্মী উশৃঙ্খল হয়ে উঠেছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করতে উঠেপড়ে লেগেছে।’
প্রক্টর অধ্যাপক তারিকুল হাসান জানান, ‘দুই ছাত্রের ওপর হামলার ঘটনা শুনেছি। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
অপরদিকে বাসুদেবের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাবি সাংস্কৃতিক জোট কর্মীরা সকাল ১০টায় রাকসু ভবন থেকে মিছিল নিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। কণিকা গোপের সঞ্চালনায় সেখানে আনোয়ার হোসেন, ইমরান হোসেন, একরামুল, সুব্রত, ফারুক ইমন ও আয়তুল্লাহ খোমেনী প্রমুখ বক্তব্য দেন। এসময় তারা হামলাকারী সজীব ও সহযোগীদের ছাত্রত্ব বাতিল, গ্রেফতার ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিরাপত্তার দাবিতে উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেন। তবে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী সজীব দাবি করেন, ‘আমাকে আগে ঘুষি মারায় তাকেও একটু মেরেছি।’