বাংলাদেশ শিশু স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় ব্যাপক সাফল্য লাভ করেছে :বার্নিকাট

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেছেন, বাংলাদেশ শিশুদের স্বাস্থ্য ও সমাজে শিক্ষার স্তর উন্নয়নে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে। তার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি মন্ত্রণালয়ের (ইউএসডিএ) ম্যাকগভার্ন-ডোল আন্তর্জাতিক শিশুপুষ্টি ও শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসনীয় প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে পেরে আমরা আনন্দিত।

 

গত এক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি মন্ত্রণালয়ের ম্যাকগভার্ন-ডোল প্রোগ্রাম বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সাথে অংশীদার হয়ে বাংলাদেশে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার স্কুল শিক্ষার্থীর প্রতিদিনের নাশতা বিতরণ করে আসছে, যা মৌলিক পুষ্টিবৃদ্ধি ও সন্তানদের স্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার  জন্য অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করেছে।  বুধবার গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ১নং কঞ্চিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গাইবান্ধার ১ লক্ষ ৩০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষার্থীর জন্য পুষ্টিকর বিস্কুট তৈরি করতে ইউএসডিএ ম্যাকগভার্ন-ডোল কর্মসূচির তরফ থেকে দেয়া ৯ হাজার ৭৪০ টন গম বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কর্মকর্তাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিভেন্স ব্লুম বার্নিকাট এ কথা বলেন।

 

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি মন্ত্রণালয়ের মিনিস্টার-কাউন্সিলর স্কট সিন্ডেলার, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রতিনিধি ক্রিস্টা রাডার, পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু বক্কর সিদ্দিক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম আমিরুল ইসলাম, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আরডিআরএসের মঞ্জুশ্রী সাহা প্রমুখ।

 
বাংলাদেশের কোনো গ্রামে এটিই তার প্রথম সফর উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট বলেন, ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার অঙ্গীকার করে যে স্কুল খাদ্য কর্মসূচির জন্য আগামী তিন বছর ধরে ২৯ হাজার টন নরম সাদা গম বাংলাদেশকে দেয়া হবে— যা পুষ্টিকর বিস্কুট তৈরিতে ব্যবহার করা হবে। এ স্কুল খাদ্য কর্মসূচির আওতায় আগামী ২০১৭ সাল পর্যন্ত গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলার প্রায় ১ হাজার স্কুলের ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী স্কুলে এলে প্রতিদিন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সমৃদ্ধ উচ্চশক্তিসম্পন্ন এক প্যাকেট করে বিস্কুট পাবে। নাশতা হিসাবে এই বিস্কুট স্কুলে উপস্থিতির সংখ্যা, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও ক্ষুধা নিবৃত্ত করতে সাহায্য করবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের পক্ষ থেকে সেই গমের অনুদান প্রতীকী হস্তান্তর করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি মন্ত্রণালয়ের এই অনুদানের অধীনে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এবং বাংলাদেশের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথভাবে ২০১৭ সালের মধ্যে এ দেশের সকল দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকার স্কুলকে এই খাদ্য কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
 
বিশ্ব খাদ্য সংস্থার প্রতিনিধি ক্রিস্টা রাডার বলেন, স্কুলে প্রতিদিন এক প্যাকেট স্বাস্থ্যসম্মত বিস্কুট শিশুদের গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজ প্রদানের ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখে যা হয়তো তাদের অন্যান্য খাদ্যে অনুপস্থিত। শেষে কর্মসূচির তরফ থেকে দেয়া ৯ হাজার ৭৪০ টন গম বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কর্মকর্তা ও গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।
 

এর আগে সকালে রাষ্ট্রদূত সি-প্লেনে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের বালাসী ঘাটে অবতরণ করে প্রথমে তিনি কঞ্চিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আওতায় স্কুল খাদ্য প্রকল্প পরিদর্শন করেন।