আদালত অবমাননার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক সাংবাদিকের পক্ষে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয়ার দায়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে কাঠগড়ায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার দণ্ড দিয়েছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া ৫ হাজার টাকা অর্থ দণ্ডও করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল বলেছে, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করবেন তিনি। দণ্ড ঘোষণার পর উচ্চ আদালতে যাওয়ার স্বার্থে রায় স্থগিতের আবেদন জানান ডা. জাফরুল্লাহ। জবাবে ট্রাইব্যুনাল বলেন, সেই সুযোগ নেই। এরপরই বিচারকরা এজলাশ ত্যাগ করেন। পরে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উচ্চ আদালতে যদি প্রমাণ হয় এই রায় ভুল ছিল তাহলে আমার জীবনের এই সময়টা কে ফিরিয়ে দেবে? তিনি বলেন, যেখানে সমালোচনা সহ্য করার পরিবেশ থাকে না সেখানে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা যায় না। আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করতে হলে কুত্সা রটনা, বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা এবং আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা এই তিনটি বিষয়কে প্রমাণ করতে হয়। কিন্তু এ রায়ের কোথাও বলা হয়নি আমি এই তিনটি বিষয় ভঙ্গ করেছি।
আদালত অবমাননার দায়ে সাজাপ্রাপ্ত ‘নিউ এজ’ পত্রিকার বিশেষ প্রতিবেদনের সম্পাদক বার্গম্যানের সাজায় উদ্বেগ জানিয়ে দেশের ৫০ নাগরিক গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর বিবৃতি দেন। ১৪ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল বিবৃতিদাতার কাছে তাদের বিবৃতির বিষয়ে ব্যাখ্যা চান। পরে বিবৃতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করায় ২৬ বিবৃতিদাতাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয় ট্রাইব্যুনাল। বাকী ২৩ জনের বিরুদ্ধে গত ১ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল আদালত অবমাননার রুল জারি করে। এ নিয়ে শুনানির পর গতকাল বুধবার ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্তরা হাজির হন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাফরুল্লাহকে আদালত অবমাননার দায়ে দণ্ডাদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। অবমাননার অভিযোগ থেকে ২২ বিশিষ্ট নাগরিককে ক্ষমা করে দেয়া হয়।