অবমাননার দায়ে জাফরুল্লাহর এক ঘণ্টার সাজা

আদালত অবমাননার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক সাংবাদিকের পক্ষে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয়ার দায়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে কাঠগড়ায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার দণ্ড দিয়েছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া ৫ হাজার টাকা অর্থ দণ্ডও করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল বলেছে, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করবেন তিনি। দণ্ড ঘোষণার পর উচ্চ আদালতে যাওয়ার স্বার্থে রায় স্থগিতের আবেদন জানান ডা. জাফরুল্লাহ। জবাবে ট্রাইব্যুনাল বলেন, সেই সুযোগ নেই। এরপরই বিচারকরা এজলাশ ত্যাগ করেন। পরে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উচ্চ আদালতে যদি প্রমাণ হয় এই রায় ভুল ছিল তাহলে আমার জীবনের এই সময়টা কে ফিরিয়ে দেবে? তিনি বলেন, যেখানে সমালোচনা সহ্য করার পরিবেশ থাকে না সেখানে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা যায় না। আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করতে হলে কুত্সা রটনা, বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা এবং আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা এই তিনটি বিষয়কে প্রমাণ করতে হয়। কিন্তু এ রায়ের কোথাও বলা হয়নি আমি এই তিনটি বিষয় ভঙ্গ করেছি।

 
এদিকে ট্রাইব্যুনালের আদেশের পর রায়ের কপি হাতে না পেয়ে দণ্ডভোগের জন্য কাঠগড়ায় দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানান ডা. জাফরুল্লাহ। ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার আদালতের আদেশ পালনের বিষয়টি তাকে অবহিত করেন। কিন্তু আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত কাঠগড়ায় না উঠতে অনড় থাকেন তিনি। পরে জাফরুল্লাহকে আদেশের লিখিত অনুলিপি দেয়া হয়। আদেশ পাঠ করে ১২-৪৯ মিনিট থেকে তিনি এক ঘণ্টা আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকেন।
 
এ প্রসঙ্গে জাফরুল্লাহ বলেন, আগামী সাতদিনের মধ্যে জরিমানার টাকা জমা দেয়ার নির্দেশ রয়েছে। এটা আমি দেব না। এর আগেই এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। জাফরুল্লাহ বলেন, আমি কোনো অন্যায় করিনি। সমালোচনা করা গণতান্ত্রিক অধিকার। দেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছি। যে কোনো অসঙ্গতির বিরুদ্ধে সমালোচনা করার অধিকার আমার রয়েছে।
 
বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গতকাল বুধবার এই রায় ঘোষণা করে। তবে একই বিষয়ে বিবৃতিদাতা ২২ জন বিশিষ্ট নাগরিককে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের এ সংক্রান্ত রায়ে বলা হয়, ২২ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিবৃতি আদালতের জন্য অবমাননাকর হলেও প্রথমবার বিবেচনায় তাদের ক্ষমা করা হলো। তবে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে এর আগেও আদালত অবমাননার অভিযোগে কার্যক্রম চলেছে। তাই তাকে দণ্ড দেয়া হলো।
 

আদালত অবমাননার দায়ে সাজাপ্রাপ্ত ‘নিউ এজ’ পত্রিকার বিশেষ প্রতিবেদনের সম্পাদক বার্গম্যানের সাজায় উদ্বেগ জানিয়ে দেশের ৫০ নাগরিক গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর বিবৃতি দেন। ১৪ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল বিবৃতিদাতার কাছে তাদের বিবৃতির বিষয়ে ব্যাখ্যা চান। পরে বিবৃতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করায় ২৬ বিবৃতিদাতাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয় ট্রাইব্যুনাল। বাকী ২৩ জনের বিরুদ্ধে গত ১ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল আদালত অবমাননার রুল জারি করে। এ নিয়ে শুনানির পর গতকাল বুধবার ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্তরা হাজির হন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাফরুল্লাহকে আদালত অবমাননার দায়ে দণ্ডাদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। অবমাননার অভিযোগ থেকে ২২ বিশিষ্ট নাগরিককে ক্ষমা করে দেয়া হয়।