বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড হ্যাক করে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করেছিল জঙ্গি সংগঠন বাংলাদেশ জিহাদী গ্রুপ। একটি সফটওয়্যার তৈরি করে ইতোমধ্যে এরা কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সংগঠনটির দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ফাহাদ বিন নুরুল্লাহ কাশেমী ওরফে ফাহাদ ওরফে কায়েসের কাছ থেকে জব্দ করা ল্যাপটপ থেকে এমনই তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে কায়েস স্বীকার করেছেন যে বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড হ্যাক করার একটি সফটওয়্যার তাদের হাতে রয়েছে। তার দেয়া তথ্যমতে, তারা হ্যাক করা বিভিন্ন ক্রেডিট কার্ড থেকে গড়ে ৫ হাজার টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিতেন। সংগঠন পরিচালনার কাজে এই টাকা ব্যয় করা হয়।
উল্লেখ্য, রবিবার রাতে রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী ও সুত্রাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও অন্যান্য সরঞ্জামসহ বাংলাদেশ জিহাদী গ্রুপের ৯ জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন মাওলানা নুরুল্লাহ কাশেমী, তার ছেলে ফাহাদ বিন নুরুল্লাহ কাশেমী ওরফে ফাহাদ ওরফে কায়েস, দেলোয়ার হোসেন, ইয়াসিন আরাফাত, কাজী ইফতেখার খালেদ ওরফে খালেদ ওরফে ইফতি, রাহাত, দ্বীন ইসলাম, আরিফুল করিম চৌধুরী ওরফে আদনান ও নুরুল ইসলাম।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সানোয়ার হোসেন বলেন, হুজি, জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, হিযবুত তাহরীর সংগঠন নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় এসব জঙ্গি সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সমন্বিত হয়ে বাংলাদেশ জিহাদী গ্রুপ গঠন করেছে।
ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে কায়েস জানিয়েছেন, বাংলাদেশ জিহাদী গ্রুপে এখন ৫০ জন নেতা সক্রিয়। এরা সহস্রাধিক কর্মী জোগাড় করেছে। ইতোমধ্যে তারা রংপুর ও দিনাজপুরে তাদের দুটি ঘাঁটি গেড়েছে। ঢাকায় বনশ্রীর বাসা থেকে তিনি এসব কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছিলেন। এরই মধ্যে তার বাবা মাওলানা নুরুল্লাহ কাশেমী গাজীপুরের কাশিমপুরে কারাগারে গিয়ে জেএমবির মওলানা আব্দুর রউফের সঙ্গে দেখা করেছেন। মওলানা রউফ নির্দেশনা দিয়েছেন যে, পুরাতন ধ্যান ধারণা পাল্টে আধুনিক আদলে দল গঠন করতে হবে। দলে আইটি বিষয়ে দক্ষ তাদেরকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এই নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনি বিদ্যা বিভাগ থেকে মাস্টার্স পাস করা ইফতেখার খালেদকে দলের অন্যতম নেতা হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। খালেদ একজন আইটি বিশেষজ্ঞ। তিনি রিমোট কন্ট্রোল বোমা তৈরি করেছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে শরীয়তপুরের জাজিরায় সে সফলভাবে রিমোট কন্ট্রোল বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।
ডিবির একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, জঙ্গিদের বিদেশ থেকে অর্থের জোগানের বিষয়টি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসায়, বাংলাদেশ জিহাদী গ্রুপ স্ব উদ্যোগী হয়ে অর্থের জোগান করছে। এ জন্য তারা বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড হ্যাক করে টাকা সংগ্রহ করছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ জিহাদী গ্রুপের দলনেতা আব্দুল্লাহ আসাদ। এর আধ্যাত্মিক নেতা মাওলানা নুরুল্লাহ কাশেমী। তিনি আগে কুয়েতে একটি মসজিদে খতিব ছিলেন। দেশে ফিরে এসে মিসরের বিখ্যাত আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ শাখা খোলেন। কিন্তু এই শাখা খুলে ব্যবসায়িকভাবে লাভবান না হলে তা বন্ধ করে দেন। পরে ইসলামিক বই লিখে তা বিক্রির অর্থ ও বিভিন্ন ইসলামী অনুষ্ঠানে বয়ান করে জীবিকা চালাতেন। এরপর তিনি বাংলাদেশ জিহাদী গ্রুপ গঠন করে ক্রেডিট কার্ড হ্যাক করেন। এভাবে সংগঠনে অর্থ তহবিল গঠন করেন।