নিত্যপণ্যের মজুদ পর্যাপ্ত, দাম বাড়ার শংকা নেই রমজানে

দেশে নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারেও দাম নিম্নমুখী। ফলে আসন্ন রমজানে ভোজ্যতেল, চিনি, চাল ও আটা-ময়দার দাম বাড়ার শঙ্কা নেই। তবে আশঙ্কা কেবল ছোলা ও মসুর ডাল নিয়ে। চাহিদার তুলনায় এ দুটি পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও দাম কিছুটা বাড়তি।

 
ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ভোজ্যতেল, চিনিসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমতির দিকে থাকলেও ছোলা ও মসুর ডালের দাম বাড়তি। ফলে দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
 
তবে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ব্যবসায়ীদের প্রতি আমার আস্থা রয়েছে। তাই আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয়  জিনিসপত্রের দাম বাড়বে না। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য দিয়ে বলেছেন, প্রতিটি পণ্যের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি আছে। তাই দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই।
 
ট্যারিফ কমিশনের দ্রব্যমূল্য মনিটরিং সেলের হিসাবে, দেশে বছরে চিনির চাহিদা ১৪ লাখ টন। অথচ চলতি অর্থবছরে দেশে চিনি আমদানি হয়েছে ১৪ লাখ ৮০ হাজার টন। এছাড়া সুগার করপোরেশনের কাছে মজুদ রয়েছে আরো দেড় লাখ টন চিনি। পর্যাপ্ত মজুদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম কমতির দিকে। গত এক বছরে বিশ্ববাজারে পরিশোধিত চিনির দাম ৫১ শতাংশ ও অপরিশোধিত চিনির দাম কমেছে প্রায় ২৯ শতাংশ কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। বর্তমানে খুচরায় প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৪ টাকায়। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, চিনির দাম প্রতি কেজি ৪০ টাকার বেশি হওয়ার কথা না।
 
চিনির পাশাপাশি ভোজ্যতেলেরও পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। চাহিদার সাড়ে ১৪ লাখ টনের বিপরীতে চলতি অর্থবছরের প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ টন ভোজ্যতেল আমদানি করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩ লাখ টন ভোজ্যতেল দেশে উত্পাদিত হয়। ফলে দাম বাড়ার কারণ নেই নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটিরও। এছাড়া চলতি বছরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম ২৮ শতাংশ ও পাম তেল ২১ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৯৫ থেকে ১০০ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ৮০ থেকে ৮২ টাকা ও পাম তেল ৫৮ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
 
একই অবস্থা চাল ও আটা-ময়দার ক্ষেত্রেও। গত এক বছর ধরেই এই পণ্য তিনটির দাম নিম্নমুখী। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে গত এক বছরে সরু চালের দাম ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ ও মোটা চালের দাম ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমেছে। এছাড়া আটার দাম কমেছে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ ও ময়দার দাম কমেছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
 
বর্তমানে নাজিরশাইল/মিনিকেট মানভেদে ৩৮ থেকে ৫২ টাকা ও মাঝারিমানের চাল পাইজাম/লতা মানভেদে ৩৬ থেকে ৪৪ টাকা ও মোটা চাল স্বর্ণা/ইরি মানভেদে ৩০ থেকে ৩৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খোলা আটা ২৮ থেকে ৩২ টাকা, প্যাকেট আটা ৩৪ থেকে ৩৬ টাকা, খোলা ময়দা ৩৬ থেকে ৪০ টাকা ও প্যাকেট ময়দা ৪২ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
 
পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল থাকলেও বর্তমান দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। বর্তমানে প্রতি কেজি আমদানিকৃত পেঁয়াজ মানভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা ও দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত বছর এ সময় ছিল ২৮ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে।
 
কাওরান বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আলাল বলেছেন, বৃষ্টির কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়েছিল। তবে দাম আর বাড়বে না। এছাড়া ভারতেও পেঁয়াজের দাম কমছে বলে তিনি জানান।
 
দেশে সারা বছর ছোলার চাহিদা প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার টন। এরমধ্যে শুধু রমজানে চাহিদা ৬০ থেকে ৭০ হাজার টন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল এই ৪ মাসে ছোলা আমদানি করা হয়েছে এক লাখ ৩৮ হাজার ৬০০ টন। যা রমজানের চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি। তারপরও দাম বাড়ছে ছোলার। বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। যা এক মাস আগে ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।
 
বর্তমানে নেপালি মসুর ডাল ১১৫ থেকে ১২০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১১০ থেকে ১১৫ টাকা, তুরস্ক-কানাডার মুসর ডাল মানভেদে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অ্যাঙ্কর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৬ টাকা কেজিতে।
 
ডালের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শফি মাহমুদ বলেছেন, নেপালে ভূমিকম্পের কারণে নেপাল থেকে ডাল আমদানি কমেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারেও এবার ডালের দাম তুলনামূলক বেশি। তাই ডালের দাম কিছুটা বেড়েছে।
 
বাজার  নিয়ন্ত্রণে স্বল্প মূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রি করছে টিসিবি
 

এদিকে প্রতি বছরের মতো এবারও রমজান উপলক্ষে স্বল্প মূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে চিনি, সয়াবিন, মসুর ডাল ও ছোলা। সারাদেশে ১৭৪টি ট্রাকে এসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া ১৫ জুন থেকে খেজুর বিক্রি করা হবে। চিনি প্রতি কেজি ৩৭ টাকা, সয়াবিন তেল এক লিটারের বোতল ৮৯ টাকা, নেপালি মসুর ডাল প্রতি কেজি ১০৩ টাকা, ছোলা প্রতি কেজি ৫৩ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাব, সচিবালয় গেট, কাপ্তান বাজার, শাপলা চত্বর, ফকিরাপুল বাজার, দৈনিক বাংলা মোড়, শান্তিনগর বাজার, শাহজাহানপুর বাজার, বাসাবো বাজার, শেওড়াপাড়া, ছাপড়া মসজিদ ও পলাশী বাজার, ফার্মগেট-খামারবাড়ি, তেজকুনিপাড়া কলমিলতা সুপার মার্কেট, মহাখালী কাঁচাবাজার, রামপুরা, মালিবাগ বাজার, আগারগাঁও বাজার, মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, মিরপুর-১, কচুক্ষেত বাজার, মোহাম্মদপুর টাউনহল ও ঝিগাতলা কাঁচাবাজার, মিরপুর-১০ গোল চত্বর, আব্দুল্লাপুর বাজার, গোপীবাগ কমিউনিটি সেন্টার, কালশীবাজার মোড় ও গোলাপশাহ মাজার-এ টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।