এত ধনী ধোনি!

মহেন্দ্র সিং ধোনি নাম লিখিয়েছেন বিখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিনের বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ২৫ জন খেলোয়াড়ের তালিকায়। এই তালিকায় স্থান পাওয়া একমাত্র ক্রিকেটারও তিনি। প্রতি বছরই এই তালিকা প্রকাশ করা ম্যাগাজিনটি এবার যে ১০০ খেলোয়াড়ের হিসেব পেশ করেছে, তাতে ধোনি রয়েছেন ২৩ নম্বরে। ভারত তো বটেই, গোটা উপমহাদেশেই তাঁর ধারে-কাছে কেউ নেই! ভারতের বিশ্বকাপ জয়ী এই অধিনায়কের সারা বছরের মোট রোজগার না কি ৩ কোটি ১০ লক্ষ মার্কিন ডলার!

 
হিসেব বলছে, ফি বছরে ধোনি শুধু খেলা থেকেই উপার্জন করেন ৪০ লক্ষ মার্কিন ডলার। আর বাকিটা? কেন, তাঁকে কি দেখা যায় না হরেক বিজ্ঞাপনে? বিনোদনের দুনিয়া যে সবচেয়ে বেশি উপার্জনের পথ খুলে দেয়, তাতেই বা নতুন কথা কী! সেই বিজ্ঞাপনের সূত্রেই ধোনির উপার্জন হয় বছরে ২৭ লক্ষ মার্কিন ডলার।
 
এই উপার্জন দেখে চোখ কপালে তুললে কিন্তু ভুল হবে। হিসেব বলছে, এই বছরে বিশ্বের ১০০ জন ধনী খেলোয়াড়দের মধ্যে নিজের জায়গাটা কিছুটা নড়বড়ে করে ফেলেছেন ধোনি। ফোর্বস্-এর হিসেব অনুযায়ী গত বছরে তিনি ছিলেন ২২ নম্বরে। এ বছর তার মানে উপার্জন কমেছে তাঁর। এক ধাপ নেমে আসা তো চোখে আঙুল দিয়ে সেটাই দেখিয়ে দিচ্ছে। ৩৩ বছরের মাহি টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও এখনও তিনি ভারতের ওয়ানডে ও টি-২০ দলের অধিনায়ক। ‘তাঁর নেতৃত্বে ভারত ২০১৫ সালে ক্রিকেট বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল। মে মাসে আইপিএল-এ ধোনির দল চেন্নাই সুপার কিংস পৌঁছেছিল ফাইনালে। ধোনির অধিনায়কত্বেই আট বারের মধ্যে ছ’বারই আইপিএল ফাইনালে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে চেন্নাই।” ধোনির কৃতিত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানিয়েছে ফোর্বস।
 
 ধোনি এক ধাপ নেমে এলেও গত বছরের মতো এ বারও একেবারে প্রথম সারিতে রয়েছেন মার্কিন বক্সার ফ্লয়েড ‘মানি’ মেওয়েদার। ঠিক তার পরের অবস্থানেই আছেন গণমাধ্যমে কথিত শতাব্দীর সেরা যুদ্ধে তার প্রতিপক্ষ ম্যানি প্যাকুইয়াও। যদিও এই ফিলিপাইনের এই বক্সাসের চেয়ে চলতি বছরে প্রায় ১৪ কোটি ডলার বেশি উপার্জন করেছেন আলোচিত ‘মানি’ বক্সিং দলের মালিক মেওয়েদার।
 
প্যাকুইয়াওকে জায়গা ছেড়ে দিতে তিন নম্বরে নেমে যেতে হয়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। তালিকা তৈরির সময়কালে এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকার আয় প্রায় আট কোটি ডলার। যা কিনা ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের দৌড়ে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এবং তালিকায় চতুর্থ স্থানে থাকা লিওনেল মেসির চেয়ে প্রায় ছয় কোটি ডলার বেশি।
 

অর্থ বিত্তে তাদের সঙ্গে প্রায় সমান তালে পাল্লা দিচ্ছেন গলফার টাইগার উডস্, টেনিস থেকে রজার ফেদেরার আর বাস্কেটবল তারকা লেব্রন জেমস। ফেদেরার এবং জেমস আছেন পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থানে।  এই তালিকা তৈরির সময় ২০১৪ সালের পয়লা জুন থেকে ২০১৫ সালের পয়লা জুন পর্যন্ত সময়সীমায় ক্রীড়াবিদদের পারিশ্রমিক, পুরস্কার মূল্য বোনাস, বিজ্ঞাপন বাবদ প্রাপ্ত অর্থ সব কিছুকেই মাথায় রাখা হয়েছে।