রাজধানীতে ৩ অস্বাভাবিক মৃত্যু, গ্রেফতার ১

 
 
মিরপুরে পৃথক ঘটনায় দুই নারীসহ তিনজনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মৃত উভয় নারীর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন—যৌতুক না পেয়ে তাদের স্বামী এবং পরিবারের সদস্যরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এ ছাড়া, যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে শুক্রবার সকালে এক তরুণের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
 
মৃত নারীদের একজন সোমা আক্তার (২৩) এবং অন্যজন মিতু বেগম (২৫)। সোমা ছিলেন নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। আর মিতু ছিলেন গৃহিণী। সোমার স্বামী আমিনুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আর মিতুর স্বামী পলাতক, তাকে খুঁজছে পুলিশ।
 
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শুক্রবার নার্সিংয়ে ইন্টার্ন শেষ হওয়ার কথা ছিল সোমা আক্তারের। পরিবারের অভিযোগ—রাজধানীর কলাবাগানে কমফোর্ট হাসপাতালে বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে সোমার লাশ ফেলে পালিয়ে যাচ্ছিলেন তার স্বামী আমিনুল ইসলাম। এ সময় তাকে আটক করে পুলিশে দেয় হাসপাতালের কর্মচারীরা। যৌতুক না পেয়ে আমিনুলই সোমাকে হত্যা করেছেন। সোমা স্বামীর সঙ্গে কল্যাণপুরের ১১ নম্বর সড়কের ৪৪ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকতেন।
 
সোমার চাচা নূরুল ইসলাম বলেন, ‘এক বছর আগে পারিবারিকভাবে সোমার সঙ্গে আমিনুলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথম দুই মাস ভালো সংসার চলছিল। এর পর ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন আমিনুল। টাকার জন্য প্রায়ই নানাভাবে সোমাকে চাপ দিতেন তিনি।’
 
নূরুল ইসলামের ভাষ্য, ‘বৃহস্পতিবার দুপুর একটা পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেলে ব্যস্ত ছিলেন সোমা। এ সময় সোমাকে বারবার ফোন করে আমিনুল। পরে তাকে কল্যাণপুরের বাসায় নিয়ে যায় আমিনুল। সন্ধ্যা ৭টার দিকে সোমাকে মৃত অবস্থায় কলাবাগানের কমফোর্ট হাসপাতালে পাওয়া যায়। সোমার গলা ও কানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে হত্যার পর রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়া হয়। কমফোর্ট হাসপাতালে রেখে রাত ৮টার দিকে আমিনুল পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় হাসপাতালের কর্মচারীরা আমিনুলকে আটক করে কলাবাগান থানায় নিয়ে যান। সেখান থেকে আমিনুলকে মিরপুর থানায় পাঠানো হয়।
 
মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুকতারুজ্জামান বলেন, ‘মিরপুর থানায় সোমা আক্তারের বাবা তমিজউদ্দিন মাস্টার মামলা করেছেন। নারী নির্যাতন, যৌতুক ও হত্যার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে।’
 
এ দিকে মিরপুর এলাকার পল্লবীতে এক নারীর বস্তাবন্দি লাশ পাওয়া গেছে তার বাসার সামনেই। তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।
 
পল্লবী থানার এসআই শাহিনুর বলেন, ‘শুক্রবার সকালে পল্লবীর প্যারিস রোডের ১৮ নম্বর লাইনে একটি টিনশেড বাসার সামনে থেকে মিতু বেগম  নামের ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়। স্বামী সবুজ মিয়া এবং এক সন্তান নিয়ে ওই বাসাতেই মিতু থাকতেন। তার লাশ পাওয়ার পর থেকে পুলিশ সবুজকে খুঁজছে।’
 
এ বিষয়ে নিহতের চাচা নিজাম গাজী বলেন, ‘যৌতুকের টাকা দাবি করে সবুজ মিয়া প্রায়ই মিতুকে মারধর করত।’
 
নিহতের বোন ঝুমুর বেগমের অভিযোগ, ‘পারিবারিক কলহের জের ধরে শ্বাসরোধে মিতুকে হত্যার পর লাশ বস্তায় ভরে বাসার সামনে ফেলে সবুজ তার পাঁচ বছরের ছেলে আলীকে নিয়ে পালিয়েছে।’
 
পল্লবী থানার এসআই শাহিনুর বলেন, ‘গত তিন মাস ধরে সবুজ ও মিতু প্যারিস রোডের বাসায় থাকতেন। সবুজ ওই এলাকায় একটি দর্জিদোকানে কাজ করতেন। মিতুর বোন ঝুমুর বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মিতুর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
 
এ দিকে, যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে শুক্রবার সকালে মো. সজীব (১৮) নামের এক তরুণের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।