যৌতুকের দাবিতে রাজধানীতে দুই নারীকে হত্যা

যৌতুকের দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে দুই নারীকে হত্যা করা হয়েছে। এদের একজন সোমা আক্তার ও অন্যজন মিতু বেগম। সোমা নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ইন্টার্ন। আর মিতু গৃহিনী। সোমার স্বামী আমিনুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আর মিতুর স্বামী পালিয়ে গেছেন। তাকে খুঁজছে পুলিশ। উভয় নারীর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, যৌতুক না পেয়ে স্বামী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এছাড়া যাত্রাবাড়ী এলাকায় গতকাল শুক্রবার সকালে মো. সজীব (১৮) নামে এক তরুণের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

 
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গতকালই নার্সিংয়ে ইন্টার্ন শেষ হওয়ার কথা ছিল সোমা আক্তারের (২৩)। কিন্তু গতকাল সেখানে তার লাশের ময়নাতদন্ত চলেছে। পরিবারের অভিযোগ, রাজধানীর কলাবাগানে কমফোর্ট হাসপাতালে বৃহস্পতিবার রাতে সোমার লাশ ফেলে পালিয়ে যাচ্ছিলেন স্বামী আমিনুল ইসলাম। এ সময় তাকে আটক করে পুলিশে দেয় হাসপাতালের কর্মচারীরা। যৌতুক না পেয়ে আমিনুলই সোমাকে হত্যা করেছেন। স্বামীর সঙ্গে কল্যাণপুরের ১১ নম্বর সড়কের ৪৪ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকতেন সোমা। নিহত সোমা আক্তারের চাচা নূরুল ইসলাম বলেন, একবছর আগে পারিবারিকভাবে সোমার সঙ্গে আমিনুলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথম দু’মাস ভালো চলছিল। এরপর ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন আমিনুল। টাকার জন্য প্রায়ই নানাভাবে সোমাকে চাপ দিতেন তিনি। নূরুল ইসলামের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার দুপুর একটা পর্যন্ত ঢাকা মেডিক্যালে ব্যস্ত ছিলেন সোমা। এ সময় সোমাকে বার বার ফোন করেন আমিনুল। পরে তাকে কল্যাণপুরের বাসায় নিয়ে যান আমিনুল। সন্ধ্যা সাতটার দিকে সোমাকে মৃত অবস্থায় কলাবাগানের কমফোর্ট হাসপাতালে পাওয়া যায়। নূরুল ইসলাম বলেন, সোমার গলা ও কানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে হত্যার পর রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়া হয়। কমফোর্ট হাসপাতালে রেখে রাত আটটার দিকে আমিনুল পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় হাসপাতালের কর্মচারীরা আমিনুলকে আটক করে কলাবাগান থানায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে আমিনুলকে মিরপুর থানায় পাঠানো হয়। মিরপুর থানায় মামলা করেছেন সোমা আক্তারের বাবা তমিজউদ্দিন মাস্টার। মিরপুর থানার এসআই মুকতারুজ্জামান বলেন, নারী নির্যাতন, যৌতুক ও হত্যার অভিযোগ এনে মামলা হয়েছে।
 

এদিকে মিরপুর পল্লবীতে এক নারীর বস্তাবন্দি লাশ পাওয়া গেছে তার বাসার সামনেই, যাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। পল্লবী থানার এসআই শাহিনুর জানান, গতকাল সকালে পল্লবীর প্যারিস রোডের ১৮ নম্বর লাইনে একটি টিনশেড বাসার সামনে থেকে মিতু বেগম (২৫) নামে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়। স্বামী সবুজ মিয়া ও এক সন্তান নিয়ে ওই বাসাতেই মিতু থাকতেন। পুলিশ সবুজকে খুঁজছে। নিহতের চাচা নিজাম গাজী জানান, যৌতুকের টাকা দাবি করে সবুজ মিয়া প্রায়ই মিতুকে মারধর করত।  নিহতের বোন ঝুমুর বেগমের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে রাতে শ্বাসরোধে মিতুকে হত্যার পর লাশ বস্তায় ভরে বাসার সামনে ফেলে সবুজ তার পাঁচ বছরের ছেলে আলীকে নিয়ে পালিয়েছে। এ ঘটনায় ঝুমুর বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেছেন। ঝুমুরের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সবুজ এলাকায় দর্জির দোকানে কাজ করতেন। গত তিন মাস ধরে তারা প্যারিস রোডের ওই বাসায় থাকছিলেন। মিতুর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।