আকুর ৪৪তম পর্ষদ বৈঠক অনুষ্ঠিত

খেলাপি ঋণ কমাতে যৌথ নীতি সহায়তার সিদ্ধান্ত

 
এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন বা আকুভুক্ত দেশগুলোর ব্যাংকের সাধারণ ও প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণ। এটি কমাতে যৌথ উদ্যোগ নীতি সহায়তা করবে এসব দেশ। মঙ্গলবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত আকুর পরিচালনা পর্ষদের ৪৪ তম বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।  বৈঠকে প্রতিটি দেশ তাদের খেলাপি ঋণের সর্বশেষ পরিস্থিতি ও তা কমাতে তাদের নিজস্ব নীতিমালার ওপর পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেনটেশন দেয়।
 
এশিয়ান কিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ৪৪ তম সভার শুরুতে ইরানের গভর্নর ড. ভেলিউল্লাহ সেইফ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
 
গতবছর ইরানে অনুষ্ঠিত বৈঠক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে আকুর চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।
 
 বৈঠক থেকে আগামী বছরের জন্য মায়ানমার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে আকুর চেয়ারম্যান এবং শ্রীলংকাকে ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে।
 
নিয়ম অনুযায়ী, যখন যে দেশ থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, সে দেশে আকু পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সে ধারবাহিকতায় আগামী বছরের মে মাসে মায়ানমারে আকু পরিচালনা পর্ষদের ৪৫তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
 
আকুর  সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আমদানি ও রফতানি করার লক্ষ্যে যে লেনদেন হয় তা প্রতি দু’মাস পর  এসব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা পরিশোধ করে।
 
 বৈঠকে আকুর গত একবছরের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে জানানো হয়, ১৯৭৬ সালে আকুতে যেখানে ৫ কোটি ১৪ লাখ ডলারের লেনদেন নিষ্পত্তি হয়েছিল। ২০১৪ সালে তা বেড়ে ২ হাজার ৩৬ কোটি ডলার হয়েছে।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে আকু পরিচালনা পর্ষদের ৪৪তম বৈঠকটি মোট তিনটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
 
দ্বিতীয় সেশনে প্রতিটি দেশ তাদের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের সর্বশেষ পরিস্থিতি ও তা কমাতে নিজেদের নীতিমালা তুলে ধরে।
 
সভার শুরুতে আকুর সদস্য হওয়ার জন্য দু’বছর ধরে পর্যবেক হিসেবে থাকা আফগানিস্তানকে পূর্নাঙ্গ সদস্য পদ দেওয়ার প্রস্তাব করেন বিদায়ী চেয়ারম্যান। সর্বসম্মতিক্রমে আফগানিস্তানকে সদস্য পদ দেয়ার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। তবে পূর্ণঙ্গ সদস্য পদ পেতে এখন বেশ কিছু শর্ত পূরণের পর দেশটি সদস্য হিসেবে অন্লর্ভুক্ত হবে।
 
বৈঠকে খেলাপি ঋণের তথ্য তুলে ধরতে গিয়ে প্রায় সবার বক্তব্যে একই রকম কথা উঠে আসে। আন্তর্জাতিক রীতিনীতির আলোকে সবাই খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে জানানো হয়। প্রত্যেকে ব্যাংক খাতের জন্য খেলাপি ঋণকে অন্যতম সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তা কমানোর জন্য নিজেদের চেষ্টার কথা বলেন।
 
আকুর বিদায়ী চেয়ারম্যান বলেন, খেলাপি ঋণ শুধু ব্যাংকের আর্থিক বিবরণীতে প্রভাব ফেলে তা না। বরং একটি দেশের সুদহার বাড়ায় ও রেটিং মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
 
বৈঠকে উত্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশে। গত ডিসেম্বর শেষে যা ছিল ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ। মার্চ শেষে ইরানের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১২ শতাংশে।
 
২০১০ সাল শেষে যা ৮ দশমিক ৮০ শতাংশ ছিল। ২০১৩-১৪ অর্থবছর শেষে ভুটানের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১২ শতাংশে। আগের অর্থবছর শেষে যা ৯ শতাংশ ছিল। মার্চ শেষে শ্রীলংকার খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মার্চ শেষে মায়ানমারের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে এক দশমিক ২৮ শতাংশে এবং নেপালে ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আগের প্রান্তিক তথা তিন মাস আগে নেপালের খেলাপি ঋণ ছিল ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
 
সেশন শেষে সভাপতির বক্তব্য দিতে গিয়ে গভর্নর বলেন, খেলাপি ঋণ আকুভুক্ত দেশগুলোর জন্য একটা সমস্যার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশে কার্যরত বিদেশি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ তুলনামহূলক কম রয়েছে। আর সরকারি ব্যাংকের তুলনায় বেসিরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ অনেক কম। অবশ্য অনেক গ্রাহক বৈশ্বিক মন্দার কারণে ভালো ব্যবসা করতে না পেরে খেলাপিতে পরিণত হয়েছেন। সমস্যায় পড়ে যেসব গ্রাহক খেলাপি হয়েছেন তাদের জন্য কেন্দ্রী ব্যাংক ঋণ পুনঃর্গঠণ, পুনঃতফসিলসহ বিভিল্পু সুবিধা দিয়েছে।
 
ড. আতিউর রহমান, আকুভুক্ত দেশগুলোর খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনা ও তা বাড়ার প্রায় একই রকম কারণ উঠে এসেছে উল্লেখ করে তা কমাতে একটি সম্মিলিত উদ্যোগের প্রস্তাব করেন। সর্বসল্ফ্মতিত্রক্রমে উদ্যোগটি পাশ হয়েছে। এখন বৈঠকে উত্থাপিত প্রতিটি দেশের এ সংক্রান্ত পেপার বাংলাদেশ ব্যাংককে দেওয়া হবে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে এ বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রস্তাব করে তা আকুতে উত্থাপন করা হবে। আগামী বছরের আকুর বৈঠকে তা উত্থাপন করা হবে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য।