খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে এই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্টীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী রয়েছে। যেমন গর্ভবতী মায়েদের জন্যে মাতৃত্বকালীন ভাতা, যা একজন মাকে অপুষ্টির হাত থেকে রক্ষা করে। এটা যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখবে।’
শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁও এলজিইডি ভবন মিলনায়তনে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (নাটাব) আয়োজিত ‘অ্যাডড্রেসিং টিবি ইন ভার্নারেবল পপুলেশন’ শীর্ষক বার্ষিক সম্মেলন-২০১৫-এ তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন—বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী দেশে মোট যক্ষ্মারোগীর প্রায় ১০ শতাংশ শিশু। শিশু যক্ষ্মা শনাক্তের নানা সমস্যা থাকলেও তা দূর করার জন্য সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের আগেই যক্ষ্মায় আক্রান্ত মৃত্যুর হার কমিয়ে এনে সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছি। তবে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে আমাদের সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ আরো বাড়াতে হবে।
বক্তারা বলেন—শনাক্তকরণে জটিলতা শিশু যক্ষ্মার ক্ষেত্রে এখনো প্রধান চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া, সংক্রমণের ইতিহাস সঠিকভাবে না জানা, অনেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিকল এক্সরে মেশিন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে যক্ষ্মা শনাক্ত যন্ত্র জিন এক্সপার্টের অভাব, চিকিত্সার প্রয়োজনীয় সুযোগসুবিধা না থাকা, জনসচেতনতার অভাবের কারণে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে শিশু যক্ষ্মা রোগীর শনাক্তের হার অনেক কম। তবে অধিক জনসংখ্যা ও ঘণবসতির কারণে ঢাকায় শিশু যক্ষ্মা রোগী তুলনামূলক বেশি।
জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (নাটাব) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোজাফফর হোসেন পল্টুর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন—জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. মোজাম্মেল হক, ওয়াশ ও ডিইসিসি কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. আকরামুল ইসলাম, নাটার-এর ভারপ্রাপ্ত সচিব খায়রুদ্দিন আহমেদ মুকুল, নারী শিশু ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও গবেষণা সমন্বয়ক ডা. খুরশীদ তালুকদার প্রমুখ।