শিশু বিয়ে বন্ধে শিক্ষায় বিনিয়োগ জরুরি

শিশু বিয়ে বন্ধে শিক্ষায় বিনিয়োগ জরুরি বলে মনে করেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা মনে করেন, নারী-পুরুষ উভয়ের মানসম্পন্ন শিক্ষা, বিজ্ঞ ও মেধাবী শিক্ষক এবং অভিভাবকদের সচেতনতার মাধ্যমে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হলে শিশু বিয়ে বন্ধে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সে ক্ষেত্রে শুধু বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না। বরাদ্দকৃত অর্থ কিভাবে ব্যয় করা হয় তা মনিটরিং করতে হবে।
 
শনিবার নগরীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে ‘শিশু বিবাহ বন্ধে শিক্ষায় বিনিয়োগ’ শীর্ষক এক সংলাপে তারা এসব কথা বলেন। টেরে ডেস হোম নেদারল্যান্ড, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, নারী ও শিশু লীড গ্লোবাল এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ সম্মিলিতভাবে এই সংলাপের আয়োজন করে।
 
সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা সচিব মো.নজরুল ইসলাম খান, বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান এবং ওমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক তানিয়া হক, টেরে ডেস হোম নেদারল্যান্ড এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মাহমুদুল কবির প্রমুখ। সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণা ইন্সটিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের এডভোকেসি পরিচালক চন্দন জেড গোমেজ।
 
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমাদের প্রধান তিনটি ক্ষেত্রে কাজ করতে হবে। তা হল দারিদ্র্য বিমোচন, মানসম্পন্ন শিক্ষা দান ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ঝরে যাওয়া রোধ করা। তিনি বলেন, যতবেশি নারী শিক্ষিত হবে তত বেশি নিয়মতান্ত্রিক হবে দেশ। শিশু বিয়ে বন্ধের যে আইন আছে তা বাস্তবায়নে যে শুন্যতা আছে তা দূর করতে আমাদের কাজ করতে হবে। বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টাকা সব সময় সমস্যা হয় না।
অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, শিক্ষায় বাজেটে টাকার অংক বাড়লেও পারসেন্টেস কমেছে। তিনি নারীর বিয়ের বয়স ১৮ ও পুরুষের ২১ বছর রাখার ওপর জোর দেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিকেও বাল্য বিয়ের বিষয়ে সচেতন হতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
 
অধ্যাপক তানিয়া হক নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে সর্বত্র নিরাপত্তাকে জোর দেন। তিনি বলেন, যানবাহনে নিরাপত্তা, যথাযথ আবাসস্থল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপরও জোর দেন তিনি।  এছাড়া সংলাপে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা মানসম্পন্ন শিক্ষক, কোচিং ক্লাস বন্ধ ও ফরম ফিলাপের অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।