ছয়শ কোটি টাকার ক্ষতি পূরণ হয়নি ১৮ বছরেও

আজ ১৪ জুন পূর্ণ হচ্ছে মাগুরছড়া গ্যাসকূপ বিস্ফোরণের ১৮ বছর। ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন কমলগঞ্জ উপজেলার মাগুরছড়া গ্যাসকূপে মার্কিন অক্সিডেন্টাল কোম্পানির ড্রিলিং চলাকালে ভয়াবহ বিস্ফোরণে লাউয়াছড়া বন, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, রেল ও সড়কপথ, পানজুম ও বিদ্যুত্ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ওই সময় পরিবেশ মন্ত্রণালয় পুরো হিসাব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ ৬০৯ কোটি টাকা নিরূপণ করে তা প্রদানের জন্য অক্সিডেন্টালের কাছে দাবি জানায়। কিন্তু অক্সিডেন্টাল ক্ষয়ক্ষতির আংশিক পরিশোধ করলেও এখনও কোন ক্ষতিপূরণ পায়নি বনবিভাগ। ফিরে আসেনি এখনো প্রাকৃতিক বনের স্বাভাবিকতা। এরই মধ্যে গাছ চোর চক্র মেতে উঠেছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সবুজ নিসর্গ ধ্বংসে। প্রসঙ্গত, উদ্যানের ভেতরেই মাগুরছড়া গ্যাসকূপের অবস্থান।

 
জানা গেছে, বিস্ফোরণে ২শ’ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুড়ে নষ্ট হয়, যার বাজার মূল্য ৫০ কোটি ডলার। প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৬৯৫ হেক্টর বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য, পিডিবির ৩৩ হাজার বিদ্যুত্ লাইন ও ২৮টি চা বাগান। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির দেয়া এক রিপোর্টে জানা যায়, লাউয়াছড়া রিজার্ভ ফরেস্টের ৮৭ দশমিক ৫০ একর এলাকা গ্যাসের আগুনে ক্ষতি হয়। সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ২০ দশমিক ৫০ একর এলাকা। কিন্তু  দুর্ঘটনার দুই বছরের মধ্যে শুধুমাত্র ফুলবাড়ি চা বাগান ও খাসিয়া পুঞ্জির ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ২ কোটি ৫ লাখ টাকা দাবির মধ্যে ৫০ লাখ টাকা ও বাস মালিক সমিতিকে ২৫ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
 
মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির মন্ত্রী জিডিসন প্রধান সুচিয়ান বলেন, এ ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রাকৃতিক বনের যে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা কেউ বুঝতে পারবে না। আমরা যারা এই বনে বসবাস করছি তারা বুঝতে পারছি।
 
সিলেট বিভাগীয় বন্যপ্রাণী বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, শুধুমাত্র বনের ১৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি নিরূপণ করে দেয়া হলেও এ পর্যন্ত কিছুই পাওয়া যায়নি।
 

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের আগস্ট মাসে অক্সিডেন্টাল মাগুরছড়া গ্যাসকূপসহ তাদের ব্যবসা অন্য মার্কিন কোম্পানি ইউনিকলের কাছে হস্তান্তর করে। ইউনিকল দায়িত্ব নেয়ার পর পুরো ক্ষতিপূরণ প্রদানে টালবাহানা শুরু করে। পরে গ্যাসকূপটির ব্যবসা চলে যায় অন্য একটি কোম্পানির হাতে। গ্যাসক্ষেত্রটি এ পর্যন্ত তিনটি কোম্পানির হাত বদল হলেও পুুরো ক্ষতিপূরণ আদায়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না।