অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ক্রেতাদের আস্থা অর্জনের জন্য বাংলাদেশে অ্যাকোর্ড ও অ্যালায়েন্সকে স্বাগত জানানো হয়েছিল, কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ড এখন তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তৈরি পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ বেশ অনেকটা এগিয়ে গেছে, হতে পারে এ কারণে তারা এ শিল্পকে একটু দাবিয়ে রাখতে চাইছে বলে মন্তব্যও করেন তিনি।
সোববার সচিবালয়ে দেশের বস্ত্র খাত কেন্দ্রিক তিনটি সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ’র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বাজেট-পরবর্তী এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
মতবিনিময় সভায় বিজিএমইএ সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম, বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের লক্ষ্যে কারখানার কাঠামো, শ্রমিক নিরাপত্তা ও অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়ে কাজ করছে ইউরোপিয়ান ক্রেতাদের সংগঠন অ্যাকোর্ড এবং উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের সংগঠন অ্যালায়েন্স। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে সংগঠন দুটি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে কাজ করছে।
মতবিনিময় সভায় বিজিএমইএ সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম অ্যাকোর্ড-অ্যালায়েন্সের কড়া সমালোচনা করে বলেন, তারা যেভাবে প্রতিটি কারখানা পরিদর্শন করছে, অন্য কোন দেশে এর নজির নেই। প্রতিটি কারখানা মালিককে তাদের ইচ্ছামাফিক শর্ত পূরণ করতে হচ্ছে। আর এজন্য প্রতিটি কারখানায় ব্যয় বাড়ছে ৫ কোটি টাকা থেকে ২০ কোটি টাকা। ফলে তৈরি পোশাকের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে যেসব কারখানা তাদের শর্ত পূরণ করতে পারছে না, তাদের কাছ থেকে পোশাক না কেনার জন্য ওয়েবসাইটে ক্রেতাদেরকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, অ্যাকোর্ড অ্যালায়েন্সের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সরকার অবগত রয়েছে। এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ বাণিজ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বাজেট-পরবর্তী আলোচনায় তিন সংগঠনের পক্ষ থেকে উৎসে কর হার বিদ্যমান দশমিক ৩ শতাংশ বহাল রাখা, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে প্রস্তাবিত ১ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার এবং বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের জন্য ১০ শতাংশ হ্রাসকৃত হারে করারোপের মেয়াদ বাড়ানোসহ ৫ দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। আলোচনার মাধ্যমে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে অর্থমন্ত্রী জানান।