দেশের কোথাও হরতালের প্রভাব পড়েনি

 
 
যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডের প্রতিবাদে জামায়াতের ডাকা হরতালের প্রভাব দেশের কোথাও পড়েনি। বুধবার সকাল ছয়টা থেকে টানা ২৪ ঘণ্টার হরতালে রাজধানীসহ দেশবাসীর জীবনযাত্রা ছিল স্বাভাবিক।
 
রাজধানীতে হরতালের সমর্থনে কয়েকটি মিছিল বের হলেও কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নগরীতে গণপরিবহন ও প্রাইভেট গাড়ি চলাচল ছিল স্বাভাবিক। দূরপাল্লার পরিবহন চলাচলও ছিল স্বভাবিক।
 
 ঢাকা নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানজট ছিল। ব্যাংকে লেনদেন হয়েছে। সচিবালয়সহ সরকারী অফিস ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং গার্মেন্টস কারখানা খোলা ছিল। এদিকে হরতালবিরোধী মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথে সরব ছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। 
 
হরতালের সমর্থনে সকাল ৬টায় ধানমন্ডি-হাজারীবাগ থানার যৌথ উদ্যোগে একটি মিছিল বের হয়। সকাল পৌনে ৭টায় খিলগাঁও থানা জামায়েতের নেতৃত্বে সিপাহীবাগ সড়কে মিছিল বের হয়। সকাল সাড়ে ৬টায় ইব্রাহিমপুর সড়কে মিছিল বের করে কাফরুল থানা জামায়াত।
 
সাড়ে ৫টায় রাজধানীর কল্যাণপুর সড়কে মিছিল বের করে  মিরপুর পশ্চিম থানা জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। খিলক্ষেতে সকাল ৬টায় মিছিল বের করে। মিছিল থেকে পিকেটিংয়ের চেষ্টা করা হলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
 
বাড্ডা-ভাটারা এলাকা সকাল ৬টায় মিছিল বের করে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীরা। সকাল ৭টায় কলাবাগান-নিউমার্কেট এলাকায় মিছিল বের হয়। প্রায় একই সময়ে রামপুরায়, পল্লবীর ১১ নম্বর বাজার সড়ক, দক্ষিণগাঁও ১ নম্বর সড়ক, যাত্রাবাড়ি কলেজ রোড, যাত্রাবাড়ির কাজলা এলাকায়, লালবাগ ও চকবাজার এলাকায়, কদমতলী পাটেরবাগ এলাকা, শ্যামপুর নতুন রাস্তা, উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। তবে কোথাও কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।
 
এদিকে সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে হরতালের বিরুদ্ধে মিছিল ও সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলো। পৃথক পৃথকভাবে স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, ওলামা লীগ ও শ্রমিক লীগ এ মিছিল ও সমাবেশ করে। মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ ও সম্মিলিত আওয়ামী সমর্থক জোটের ব্যানারে ওই মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
 
মিছিলকারীরা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে থেকে বুধবার সকালে মিছিল শুরু করে জিরো পয়েন্টের সামনে দিয়ে ঘুরে আবার কার্যালয়ে এসে শেষ করে। এ সময় সংগঠনগুলো পৃথকভাবে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। এছাড়া রাজধানীর প্রায় শতাধিক স্থানে হরতালবিরোধী মিছিল-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
 
এদিকে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোসহ সারাদেশে কোথাও হরতালের প্রভাব পড়েনি। দেশবাসীর জীবনযাত্রা ছিল স্বাভাবিক। আমাদের চট্টগ্রাম অফিস জানায়, হরতালের চট্টগ্রামের জনজীবন অনেকটাই স্বাভাবিক ছিল। হরতালের সমর্থনে নগরীর কোথাও মিছিল, সমাবেশ কিংবা পিকেটিং হয়নি।
 
খুলনা অফিস জানায়, খুলনায় জামায়াতের ডাকা হরতাল পালিত হয়নি। হরতালের সমর্থনে নগরীতে কোন মিছিল-পিকেটিং দেয়া যায়নি. ঘটেনি কোন অপ্রীতিকর ঘটনাও। মঙ্গলবার রাত থেকৈ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ জামায়াত-শিবিরের ২৩ নেতাকর্মীকে আটক করে।
 
রাজশাহী অফিস জানায়, রাজশাহীতে জামায়াতের হরতালের কোন প্রভাব পড়েনি। রাজশাহীর সার্বিক কর্মকান্ড ছিল স্বাভাবিক। হরতালের সমর্থনে কোন মিছিলও হয়নি। কোথাও কোন কাজে বাধা আসেনি বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে নাশকতা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি।
 
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, জামায়াতের ডাকা হরতাল সাতক্ষীরায় পালিত হয়নি। জেলার কোথাও মিছিল, মিটিং ও পিকেটিংয়ের খবর পাওয়া যায়নি। ভোমরা বন্দরসহ জেলার সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। নাশকতায় আশংকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ বিএনপি-জামায়াতের ২৬ কর্মীসহ ৫৪ জনকে আটক করে।