অর্থমন্ত্রীকে আইন কমিশনের চিঠি

 
 
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে চিঠি দিয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি ও আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এবিএম খায়রুল হক।
 
চিঠিতে বলা হয়েছে, বিচারক স্বল্পতা, এজলাশ সংকট, ভৌত অবকাঠামো ও লজিস্টিক বিষয়াদির অপ্রতুলতাসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত বিচার বিভাগ জনগণের ন্যায় বিচারের নিশ্চয়তা ও মানবাধিকার রক্ষায় বলিষ্ঠ, দৃশ্যমান ও কার্যকর ভূমিকা পালনে পিছিয়ে যাচ্ছে। ফলে জনগণের আস্থা ও ভরসার জায়গায় হতাশার সৃষ্টি হচ্ছে যা রাষ্ট্র ব্যবস্থার ভারসাম্যকে দুর্বল করে।
 
চিঠিতে ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত বাজেটে স্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক নতুন বিচারক নিয়োগ এবং আইন কমিশনের নিজস্ব ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত বরাদ্দ অন্তর্ভূক্তকরণের জন্য অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
 
চিঠিতে বলা হয়, বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে হলে একটি আস্থাশীল, কার্যকর ও গতিময় বিচার বিভাগ দেশের টেকসই ও স্থিতিশীল উন্নয়নের স্বার্থে বিশেষ প্রয়োজন। এজন্য বাজেটে আইনের শাসন, মামলার জট ক্রমান্বয়ে লাঘবের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণসহ বিচার বিভাগ সংক্রান্ত আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদির প্রতি দৃষ্টিপাত অতীব প্রয়োজন বলে মনে করে আইন কমিশন।
 
পত্রে বলা হয়, প্রতি বছর মামলা মোকদ্দমার সংখ্যা বিপুল পরিমাণে বাড়ছে। কিন্তু বিচার বিভাগের নতুন কোন পদ সৃজন করা হচ্ছে না। নিয়োগ পর্যায় হতে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রায়োগিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে পরিপূর্ণ একজন বিচারক হিসেবে আদালতে কাজ শুরু করতে কমপক্ষে তিন বছর সময় প্রয়োজন হয়। ইতমধ্যে নতুন মামলা দায়ের থেমে থাকবে না, বরং ক্রমাগতভাবে বাড়তে থাকবে। অধিক সংখ্যক বিচারক নিয়োগে এই সমস্যার প্রধান সমাধান।  নিয়মিতভাবে প্রতি বছর অন্তত ২০০ নতুন বিচারক নিয়োগ দেয়া জনস্বার্থে জরুরি। ফলে ন্যূনতম সময়ের মধ্যে নতুন বিচারকগণ দায়িত্বভার গ্রহণ করতে পারবেন। এতে মামলা জটের ক্রমবৃদ্ধি কিছুটা হলেও হ্রাস প্রতিক্রয়ার সূচনা করবে। অন্তর্বর্তী সমাধান হিসেবে বিচার কর্মবিভাগ হতে অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজগণেল মধ্য হতে দক্ষ, সত্ ও যোগ্য কর্মকর্তাগণকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা যেতে পারে। এজন্য প্রয়োজনীয় বাজেট ও সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে চিন্তা করার সময় এসেছে। নতুবা মামলা মোকদ্দমার জট বৃদ্ধির প্রবণতা কোনভাবেই নিন্মগামী করা যাবে না।
 
পত্রে আরো বলা হয়, প্রায় ৩০ লক্ষ মামলার ভারে বিচার বিভাগ আজ ন্যুব্জ এবং ক্রমাগতভাবে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাত্র ১৬/১৭শত বিচারকের পক্ষে এই সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করা কখনই সম্ভব নয়। সর্বশেষ অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইন ও রিভিশনাল জরিপ সংক্রান্ত ল্যাণ্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল করার ফলে অতি অল্প সময়ে লক্ষ লক্ষ মোকাদ্দমার সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি আরব্রিটেশন মোকদ্দমার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করতেও বছরের পর বছর সময় লেগে যাচ্ছে।