শেয়ারবাজার ও ব্যাংক ‘লুটকারী রুক্তচোষাদের’ এই আমলের ‘নব্য মুজাহিদ (জামায়াতের আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের সঙ্গে তুলনা করে) আখ্যায়িত করে তাদেরকে রুলিং দিয়ে যে কোনো উপায়ে থামানোর দাবি জানিয়েছেন জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দিন খান বাদল। বুধবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।
জাসদের মইন উদ্দিন খান বাদল বলেন, আজকের পত্রপত্রিকায় খবর এসেছে-জামায়াতের আলী আহসান মুজাহিদের ফাঁসির দণ্ড বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। মুজাহিদরা এই জাতির জন্মের আঁতুড়ঘরে আঘাত করেছিল। কিন্তু এই আমলের যারা নব্য মুজাহিদ, যারা এই জাতির ভেতরে থেকে জনগণের রক্ত চুষছে, তাদের বিষয়ে কোনো খবর নেই। আজকেও একটি পত্রিকায় খবর আছে-৩০০ কোটি টাকার খবর নেই। দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন মাঝে-মধ্যেই এই ধরনের সংবাদ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। বিষয়টি এমন হয়ে গেছে যে, বাংলাদেশে পয়সা কামানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে কোনো একটি জায়গাকে অতিমূল্যায়িত করা এবং ব্যাংক ঋণ নিয়ে দেব-দিচ্ছি করে বছরের পর বছর তারে-নারে করা। একটা সময়ে ব্যাংক এগুলোকে অবলোকন করে দেয়। ব্যাংকের টাকা আত্মসাত্কারীর আর দেখা থাকে না।
এসময় সংসদে উপস্থিত থাকা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে উদ্দেশ্য করে বাদল বলেন, অত্যন্ত প্রাজ্ঞ অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই, এর কী কোনো সমাধান নেই! বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর বিষয়ে এতকিছু লেখা হলো। তিনি দেশে থাকে না? সে কী আকাশে না হিমালয়ে থাকে। আইন কী তাদের স্পর্শ করতে পারে না! যখনই এই ধরনের কিছু ঘটে আমরা কিছুদিন চুপচাপ থাকি, তারপর সব ভুলে যাই।
তিনি বলেন, যারা হাজার হাজার কোটি টাকা এভাবে আত্মসাত্ করলো, তাদেরকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো তো দূরের কথা, বরং আমরা দেখছি তারা ক্ষমতার আশেপাশে দাঁড়িয়ে আছে। এটা রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। আপনারা তাদেরকে ক্ষমতার আশেপাশে রাখবেন, ক্ষমতার আশপাশে আমরা তাদের ছায়া দেখবো, এটা আশা করি না।
মইন উদ্দীন বাদল আরও বলেন, আমাদের অর্থমন্ত্রী যখন গভীর দুঃখের সঙ্গে বলেন যে-ওরা এতই প্রভাবশালী যে সেখানে হাত দিতে পারবো না। অর্থমন্ত্রী যদি এমনই অসহায় হন, তাহলে আর এত কোটি কোটি টাকার বাজেট দিয়ে লাভ কী! এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, একটা রুলিং দিয়ে এদেরকে যে কোনো উপায়ে থামাতে হবে। যারা এই জাতির রক্ত খাচ্ছে, তাদের থামান।