নগর সংস্কৃতি

ভাস্কর নভেরা ভাস্বর হয়ে থাকবেন

ভাস্কর নভেরা আমাদের জাতীয় জীবনে চিরভাস্বর হয়ে থাকবেন। তাকে নিয়ে গবেষণাসহ আরো নানামুখী কাজ করে ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন শিল্পী, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিতরা। গতকাল তথ্যচিত্র প্রদর্শন, স্মৃতিচারণা এবং মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হলো বাংলাদেশে আধুনিক ভাস্কর্যশিল্পের পথিকৃত্ নভেরা আহমেদকে।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে শিল্পকলা একাডেমি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন নভেরাকে নিয়ে উপন্যাসের রচয়িতা সাহিত্যিক হাসনাত আবদুল হাই, কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন ও শিল্প সমালোচক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের পরিচালক আনোয়ার হোসেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, এতে কোন সন্দেহ নেই যে হামিদুর রহমানের সাথে নভেরা আহমেদের যৌথ প্রচেষ্টায়ই এটি তৈরি হয়েছিল। জাদুঘরে নভেরার যেসব শিল্পকর্ম আছে সেগুলো খুব দ্রুতই সংস্কার করা হবে। এরপর আমরা একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করব, আশা করছি। প্যারিস থেকে তার শিল্পকর্ম দেশে আনার চেষ্টা চলছে। নভেরা আহমেদকে নিয়ে গবেষণা খুব জরুরি।’

 
ঢাবির চারুকলা অনুষদের ডিন নিসার হোসেন বলেন, ‘নভেরা আহমেদকে আবেগ দিয়ে বিবেচনা না করে বিচার-বিশ্লেষণ করতে হবে। শহীদ মিনারের নকশাকারের নাম থেকে নভেরার নাম কেন মুছে দেয়া হলো তার কারণও খুঁজে বের করতে হবে।’
 
স্থপতি রবিউল হুসাইন বলেন, ‘প্যারিসে নভেরা আহমেদে যেসব কাজ আছে সেগুলো দেশে ফিরিয়ে আনা দরকার। জাদুঘরে যেসব কাজ আছে সেগুলো ভঙ্গুর হয়ে গেছে। এগুলোর সংস্কার খুব জরুরি। নভেরার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শুধু কথা দিয়ে হবে না, কাজ সংরক্ষণের মাধ্যমে করতে হবে।’
 
শিল্প সমালোচক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৬০ সালে ঢাকার পাবলিক লাইব্রেরিতে ৭৫টি ভাস্কর্য নিয়ে নভেরা আহমেদের প্রদর্শনী হয়। এটি বোধহয় উপমহাদেশের প্রথম কোনো নারী ভাস্করের প্রদর্শনী।’
 
অনুষ্ঠানের শুরুতে নভেরা আহমেদের জীবনী নিয়ে তথ্যচিত্র ‘ন হন্যতে’ দেখানো হয়।
 
শেষ হলো ‘হাতে বোনা ভবিষ্যত্’
 

শেষ হলো গিদরী বাউল বাউলি ফাউন্ডেশন অব আর্টস আয়োজিত ‘হাতে বোনা ভবিষ্যত্’ শীর্ষক তিনদিনব্যাপি কারুশিল্প প্রদর্শনীটি। গতকাল বুধবার জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনের লবিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সমাপ্তি ঘোষণা করেন কবি এবং শিল্প সমালোচক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর। উপস্থিত ছিলেন শিল্পী শিশির ভট্টাচার্য, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অধ্যক্ষ শামসুন্নাহার, মনোভূমি আর্ট স্পেসের নির্বাহী পরিচালক মাসুুদুর রহমান, সাদাকালোর তাহসিনা শাহিন। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাধীন। বোরহানউদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, আমরা সবাই এক ধরনের শিল্পীই। আমাদের সবারই ঐশ্বরিক গুণ আছে। এটা কাজে লাগাতে হবে। আমাদের দায়িত্ব এইসব শিল্পীদের বাঁচিয়ে রাখা।