সবজি পেঁয়াজ আদা রসুনে রমজানের আঁচ

পবিত্র রমজান শুরু হতে আর মাত্র ১দিন বাকি। তার আগেই কিছু কিছু পণ্যে লেগেছে ‘রমজানের’ আঁচ। দাম বেড়েছে প্রায় সব ধরনের সবজির। বেড়েছে পেঁয়াজ, আদা, রসুন ও ছোলার দাম। তবে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিও রয়েছে। স্থিতিশীল রয়েছে ভোজ্যতেল, চিনি, চাল, আটা-ময়দা, মসুর ডাল ও ছোলার দাম।

 
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রমজানের আগে বাজারে ক্রেতাদের একটু চাপ বেশি থাকে। রমজান শুরুর এক সপ্তাহের মধ্যে দাম কমে যাবে। এছাড়া গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টির জন্যও সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে বলে তারা জানান।
 
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছেন, দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারেও দাম নিম্নমুখী। ফলে আসন্ন পবিত্র রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণ নেই। এছাড়া বাজারে কঠোর নজরদারি করছে। কারণ ছাড়া কোন পণ্যের দাম বাড়ানো হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
গতকাল বুধবার রাজধানীর কাওরানবাজার ও নিউমার্কেটসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দামই বেড়েছে। বিশেষ করে বেগুনের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। প্রতি কেজি বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য সবজির মধ্যে বাজারভেদে ঢেঁড়শ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, পটল ২৫ থেকে ৩০ টাকা, ঝিঙা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, আলু ২০ থেকে ২৪ টাকা, করল্লা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, কাঁচামরিচ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা সবজি ভেদে গত এক সপ্তাহের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেশি।
 
দাম বেড়েছে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের। গতকাল দেশি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা, আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, আদা ১০০ থেকে ১৫০ টাকা ও আমদানিকৃত রসুন ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এক সপ্তাহ আগে দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪০ টাকা, আদা ১০০ থেকে ১৪০ টাকা ও আমদানিকৃত রসুন ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। সরকারের বিপণন সংস্থা টিসিবির হিসাবেই দাম বাড়ার এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
 
কাওরানবাজারের মশলা ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, রমজানে পেঁয়াজের উপর চাপ পড়ে। পেঁয়াজুর প্রধান উপকরণ হচ্ছে পেঁয়াজ। এছাড়া বৃষ্টির জন্যও এ পণ্যটির দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে নতুন করে দাম বাড়ার কারণ নেই।
 
তবে গরু ও খাসির মাংস এবং মুরগির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। গতকাল বাজারে গরুর মাংস ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, খাসির মাংস ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা ও মুরগি ব্রয়লার ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকা ও দেশি মুরগির কেজি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা বিক্রি হয়। এছাড়া স্থিতিশীল রয়েছে ভোজ্যতেল, চিনি, চাল, আটা-ময়দা, মসুর ডাল ও ছোলার দাম।
 
ট্যারিফ কমিশনের দ্রব্যমূল্য মনিটরিং সেলের হিসেবে  দেশে বছরে চিনির চাহিদা ১৪ লাখ টন। অথচ চলতি অর্থবছরে দেশে চিনি আমদানি হয়েছে ১৪ লাখ ৮০ হাজার টন। যা চাহিদার তুলনায় ৮০ হাজার টন বেশি। এছাড়া সুগার করপোরেশনের কাছে মজুদ রয়েছে আরো দেড় লাখ টন চিনি। পর্যাপ্ত মজুদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম কমতির দিকে। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৩৮ থেকে ৪০ টাকায়।
 
পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে ভোজ্যতেলেরও। চাহিদার সাড়ে ১৪ লাখ টনের বিপরীতে চলতি অর্থবছরের প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ টন ভোজ্য তেল আমদানি করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩ লাখ টন ভোজ্যতেল দেশে উত্পাদিত হয়। ফলে দাম বাড়ার কারণ নেই নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটিরও। বর্তমানে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৯৫ থেকে ১০০ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ৮০ থেকে ৮২ টাকা ও পাম তেল ৫৮ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
 
একই অবস্থা চাল ও আটা-ময়দার ক্ষেত্রেও। গত এক বছর ধরেই এই পণ্য তিনটির দাম নিম্নমুখী। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের ( টিসিবি) হিসেবে গত এক বছরে সরু চালের দাম ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ ও মোটা চালের দাম ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমেছে। এছাড়া আটার দাম কমেছে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ ও ময়দার দাম কমেছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
 
বর্তমানে নাজিরশাইল/মিনিকেট মানভেদে ৩৮ থেকে ৫২ টাকা ও মাঝারিমানের চাল পাইজাম/লতা মানভেদে ৩৬ থেকে ৪৪ টাকা ও মোটা চাল স্বর্ণা/ইরি মানভেদে ৩০ থেকে ৩৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খোলা আটা ২৮ থেকে ৩২ টাকা, প্যাকেট আটা ৩৪ থেকে ৩৬ টাকা, খোলা ময়দা ৩৬ থেকে ৪০ টাকা ও প্যাকেট ময়দা ৪২ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
 

এদিকে এক সপ্তাহ আগে ছোলা ও মসুর ডালের দাম কিছুটা বাড়লেও এখন স্থিতিশীল রয়েছে। মানভেদে ছোলা ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে নেপালী মসুর ডাল ১১৫ থেকে ১২০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১১০ থেকে ১১৫ টাকা, তুরস্ক-কানাডার মসুর ডাল মানভেদে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।