টাঙ্গালের ঘাটাইলে শিশু পুত্র সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছে পিতা। বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের কাত্রা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায় ,উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের কাত্রা গ্রামের আঃ গফুরের ছেলে রনজু মিয়া (২৫)। রনজু মিয়া বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার দিকে তার স্ত্রী শামীমা ও তার দেড় বছরের শিশু পুত্র শাহীনকে নিয়ে বাড়ির পাশের আনিছের রাইচ মিলে ধান ভাঙ্গাতে যায়। ধান ভাঙ্গাতে দেরি হওয়ায় রনজু মিয়া তার ছেলেকে নিয়ে বেলা অনুমান দেড়টার সময় বাড়িতে চলে আসে। বাড়িতে এসে রনজু তার ছেলেকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তার লাশ বালিশ ও পিড়ি দিয়ে ঢেকে রাখে। শিশু পুত্রকে হত্যার পর তার বাবা রনজু নিজ ঘরের আড়ার সাথে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্বহত্যা করে।
বেলা ২টার দিকে রনজুর স্ত্রী শামীমা ধান ভাঙ্গিয়ে বাড়ি ফিরে শিশু পুত্র শাহীনের লাশ বালিশ চাপা অবস্থায় এবং তার স্বামীর লাশ ঘরের আড়ার সাথে ফাঁস দেয়া অবস্থায় দেখতে পায়। শামীমার ডাক চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে পিতা-পুত্র দুজনের লাশ উদ্ধার করে এবং ঘাটাইল থানার পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
রনজু মিয়ার মা রানী বেগম জানায় ৫/৬ মাস যাবৎ রনজু মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। তার মা ও চাচা মজিবর রহমানসহ পরিবারের লোকজনের ধারনা মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারনে সে এ রকম ঘটনা ঘটিয়েছে।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মোখলেছুর রহমান জানান, পিতা-পুত্র দুজনের লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারনে সে এ রকম ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে জানান তিনি।