নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলকে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পুরানো আর্থিক বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়ে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দলগুলোর সাধারণ সম্পাদক/মহাসচিব বরাবর এ চিঠি পাঠিয়েছে ইসি। তবে পর পর তিন বছর কোন দল হিসাব না দিলে স্বংয়ক্রিয়ভাবে ওই দলের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যায়। এর আগে গণফ্রন্ট দুই বছর এবং বিকল্প ধারা গত বছর হিসাব দেয়নি। তবে উচ্চ আদালতের রায়ে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় দলটিকে চিঠি দেয়নি কমিশন।
চিঠি পাঠানোর সত্যতা স্বীকার করে ইসি সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, রাজনৈতিক দলগুলোকে বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাবের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিতেই এ চিঠি দেয়া হয়েছে।
ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ইত্তেফাককে জানান, ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর কোন খাত থেকে কত টাকা আয় হয়েছে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে, বিল-ভাউচারসহ তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য কমিশনের নির্ধারিত একটি ছকে জমা দিতে হবে। কমিশন থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে আয়-ব্যয়ের হিসাবের ফরম দেয়া হয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে আয়-ব্যয়ের হিসাব দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি খাত অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট তথ্য তারিখসহ উল্লেখ করতে হবে। ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার উপ-সচিব মু. আবদুল অদুদ বলেন, ৩১ জুলাইয়ের পরে হিসাব গ্রহণ করা হবে না।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পূর্বের পঞ্জিকা বছরের আর্থিক লেনদেনের হিসাব প্রতিটি নিবন্ধিত দলকে জমা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই একটি রেজিস্টার্ড চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্ম দ্বারা দলের হিসাব অডিট করাতে হবে। এ হিসাবে সদস্য সংগ্রহসহ কোন খাত থেকে কত টাকা আয় হয়েছে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে বিল-ভাউচারসহ তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য কমিশনে জমা দিতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ১৯৭২-এর ৯০-এইচ (১) (সি) ধারা অনুযায়ী নিবন্ধিত কোনো দল পরপর তিন বছর কমিশনে তথ্য প্রদান করতে ব্যর্থ হয় তবে সে দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে।
বর্তমানে ইসির তালিকায় ৪০টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত রয়েছে।