নতুন দুটি প্লট প্রকল্প নিয়েছে রাজউক

ভবনের নকশা পেতে হয়রানি রোধে আগামী ১ জুলাই থেকে নকশা প্রদান কার্যক্রম অটোমেশন পদ্ধতিতে পরিচালনা করবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। একই সঙ্গে রাজধানীর আবাসন সমস্যা দূর করতে নতুন দুটি স্থানে প্লট বরাদ্দ প্রকল্প চালু করা হচ্ছে। যদিও এর আগে রাজধানীতে প্লট প্রকল্প গ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়েছিল সংস্থাটি।

 
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজউক ভবনের সভাকক্ষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জিএম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই নতুন দুটি প্লট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তবে প্রকল্প দুটি রাজধানীর কোন কোন স্থানে চালু করা হবে এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি তিনি।
 
রাজউক চেয়ারম্যান জানান, ২০১৫ থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত ২০ বছর মেয়াদি নতুন করে ড্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে। এ ড্যাপ প্রণয়নে ৩টি সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া ড্যাপের প্রাথমিক কাজ হিসেবে ঢাকা স্ট্রাকচার প্ল্যান তৈরির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আমরা এই প্ল্যানটির জনমত যাচাই কাজ শুরু করেছি।            
 
জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া বলেন, ইমারত নির্মাণে জমির নকশা প্রদানে বিভিন্ন প্রকার হয়রানি, ঘুষ গ্রহণসহ সময় ক্ষেপণের দীর্ঘ দিনের অভিযোগ দূর করতে আমরা নকশা প্রদান ও গ্রহণ কার্যক্রম আগামী ১ জুলাই থেকে অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসছি। নকশার জন্য দরখাস্ত গ্রহণ, জমাদান ও নকশার সর্বশেষ অবস্থা অনলাইন মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এছাড়া মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোড দিয়ে মেসেজ প্রদান করেও যে কোনো গ্রাহক তার জমির নকশার সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারবেন। ফলে গ্রাহকদের ভোগান্তি বর্তমানের চেয়ে অনেক কমে আসবে। অটোমেশন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে রাজধানীর লালবাগ ও ধানমন্ডি এলাকাকে বেছে নেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো ইমারত নির্মাণ করা সম্ভব হবে না। এ সময় রাজধানীতে নকশা বহির্ভূতভাবে অসংখ্য ভবন নির্মিত হওয়ার কথা তিনি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-২০০৮-এ নানা অসঙ্গতি রয়েছে। এ বিধিমালা সংস্কারের প্রস্তাব ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
 
সাংবাদিক সম্মেলনের জানানো হয়, রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র হাতিরঝিলের বর্তমান সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধিকল্পে রাজউক নানা উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। হাতিরঝিলকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে এমভি থিয়েটার স্থাপনের কাজ চলছে। এছাড়া ঝিলের পানিতে ওয়াটার ট্যাক্সি ক্যাব চালুসহ হাতিরঝিলকে রাজধানীবাসীর বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত করার কাজ চলমান রয়েছে।
 
গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, উত্তরা এপার্টমেন্ট প্রকল্প ৩য় পর্যায়ের কাজ নতুন করে শুরু হচ্ছে। এর আগে এ প্রকল্পের মধ্যে মেট্রোরেল তৈরির জন্য ৬০ একর জমি প্রদান করাসহ নানা সমস্যা থাকায় আমরা  প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে পারিনি।  প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নতুন করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হবে। প্রকল্পে বিনিয়োগকারী পূর্বের গ্রাহকদের ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
 

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজউকের সদস্য (প্রশাসন) মো. আকতার উজ জামান, সদস্য (স্টেট) আব্দুল হাই, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) শেখ মো. শামীম ইকবাল, প্রধান প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান মুন্সী প্রমুখ।