সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবরের বিরুদ্ধে এবার ‘অর্থপাচারের অভিযোগ’ অনুসন্ধানে নামছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিশেষ করে প্রাইম ব্যাংকের বনানী শাখায় বাবরের নিজস্ব এ্যাকাউন্টে ১০ লাখ ইউএস ডলার (প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা) জমা হলো কিভাবে তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। সিঙ্গাপুরের এইচএসবিসি ব্যাংকের মাধ্যমে বাবরের এ্যাকাউন্টে দুই দফায় ১০ লাখ ইউএস ডলার জমা হয়। সিঙ্গাপুর থেকে তার নিজস্ব এ্যাকাউন্টে ওই পরিমাণ অর্থ জমা হওয়ার মূল কারণ, উদ্দেশ্য ও সম্পৃক্তদের খুঁজে বের করতেই এ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। গত ২৫ মে এ অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের উপ-পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলমকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও পরিচালক মো. নূর আহাম্মদকে তদারককারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ৭ কোটি ৯১ হাজার ৮৯৬ টাকার তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে বাবরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। পরবর্তী সময়ে এ মামলায় চার্জশিট দাখিল করে দুদক। তবে আদালতের নির্দেশে বর্তমানে মামলাটি বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। এবার তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং এর অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
বাবরের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুদক। তখন দুদকের অনুসন্ধানে সিঙ্গাপুরের এইচএসবিসি ব্যাংকের মাধ্যমে বাবরের নিজস্ব এ্যাকাউন্টে দুই দফায় ১০ লাখ ইউএস ডলার জমা হওয়ার তথ্য উদ্ঘাটন হয়। সে সময় দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে বাবর এ বিপুল পরিমাণে অর্থের বিষয়ে সঠিক কোনো জবাব দিতে পারেননি। পরে অনুসন্ধান শেষে তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় এ অর্থ সম্পদ অবৈধ সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। সে কারণে আদালতের নির্দেশনায় মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থগিতের পাশাপাশি বাবরের ওই ব্যাংক এ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (লেনদেন স্থগিত) করা হয়। বর্তমানে কমিশন মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া ওই টাকার ব্যাপারে মানি লন্ডারিং আইন, ২০১২ অনুসারে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মানি লন্ডারিং এর এ অভিযোগ অনুসন্ধানের ব্যাপারে দুদকের সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, দুদকে অর্থ পাচারের যে সব অভিযোগ এসেছে তার প্রায় সবকটিই ছিল এদেশ থেকে অর্থ বিদেশে পাচার। তবে লুত্ফুজ্জামান বাবরের বেলায় ঘটেছে উল্টো ঘটনা। বিদেশ থেকে তার একাউন্টে টাকা জমা পড়েছে। এ কারনে অর্থ পাচারের এ ঘটনাটি কমিশন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, বিশাল অঙ্কের অর্থ কেন বাবরের এ্যাকাউন্টে এসেছিল এবং এ অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জঙ্গি অর্থায়নের কোন সর্ম্পক ছিল কিনা সেটাও অনুসন্ধানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সাথে এ অর্থ লেনদেনে কারা সম্পৃক্ত ছিল এবং তাদের কি র্স্বাথ ছিল সেটার খোঁজ নেয়া হচ্ছে।
এদিকে দুদকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, কমিশন ইতিমধ্যে অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছে। তাদের সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে। জড়িতদের অধিকাংশই তত্কালিন সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তি। অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক।