ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছেন, রাজধানীর ইস্কাটনে সংসদ সদস্য পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনির পিস্তলের গুলিতেই যে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে তা ব্যালাস্টিক পরীক্ষায় প্রমাণ হয়েছে। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।
মনিরুল ইসলাম বলেন, সিআইডির ব্যালাস্টিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, ভিকটিমদের গায়ে পাওয়া গুলি ও রনির পিস্তল একই ক্যালিবারের। রনির পিস্তলের গুলিতেই জোড়া খুন হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সিআইডি প্রতিবেদন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়েছে, নিহত সিএনজি চালক ইয়াকুব আলীর লাশের মধ্যে পাওয়া গুলিটি বখতিয়ার আলম রনির লাইসেন্সকৃত পিস্তলের। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে ময়না তদন্তের সময় চিকিত্সকরা ইয়াকুবের লাশ থেকে গুলিটি উদ্ধার করেন। ওই গুলিটি পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে রনির বাসা থেকে জব্দ করা সেভেন পয়েন্ট সিক্স ফাইভ ক্যালিবারের পিস্তলের ব্যালাস্টিক পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। সিআইডি পিস্তল ও গুলিটি পরীক্ষা করে দেখতে পায় যে, জব্দ করা গুলিটি রনির পিস্তল থেকে বের হয়েছিল।
এদিকে ঘটনার দিন গাড়িতে থাকা চারজনই বলেছেন, রনিউ গুলি চালিয়েছে। গতকাল দুই বন্ধু যুবলীগ নেতা টাইগার কামাল ও জাহাঙ্গীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এর আগে বুধবার রনির আরেক বন্ধু কামাল মাহমুদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া রনির গাড়ির চালক ইমরান ফকিরও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত,গত ১৩ এপ্রিল মধ্য রাতে নিউ ইস্কাটনে মদ্যপ অবস্থায় রনি তার লাইসেন্সকৃত পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়লে দৈনিক জনকণ্ঠের অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী ও রিকশাচালক আবদুল হাকিম নিহত হন। এ ঘটনায় নিহত হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ১৫ এপ্রিল রাতে অজ্ঞাত আসামিদের নামে রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গোয়েন্দা পুলিশ প্রযুক্তি ও সিসিটিভির ফুটেজ দেখে গাড়িটি সনাক্ত করেন। পরে প্রথমে গাড়িচালক ইমরান ফকির ও পরে গুলি বর্ষণকারী এমপিপুত্র রনিকে ধানমন্ডির ৪ নম্বর রোডের ২৫ নম্বর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। ইমরান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও রনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। পুলিশ তাকে রিমান্ডে নিলে তিনি অসুস্থতার ভান করেন। পরে তাকে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সা দিয়ে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে রনি যানজটে বিরক্ত হয়ে গুলি চালানোর কথা স্বীকার করেন।