একান্ত সাক্ষাত্কারে মেয়র খোকন

একটি বেহাল অবস্থায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব পেয়েছি। নগর ভবনের যে অফিস কাঠামো– সেখানেও একটি বড় রকমের বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। নগরবাসীদের যে সার্ভিসগুলো প্রদান করা হয়– সেগুলোর অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়া। স্ট্রিট লাইট (সড়ক বাতি), রাস্তাঘাট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম, জলাবদ্ধতা– নগরবাসীদের কাছে এগুলোর একেবারে চরম ভোগান্তিতে বিরাজ করছে। এই অবস্থায় মেয়র হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ইত্তেফাকের কাছে একান্ত সাক্ষাত্কারে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন এসব কথা বলেন।   

 
সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, যে অবস্থায় দায়িত্ব পাওয়া গেছে, সেখানে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দেনা রয়েছে প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঠিকাদার, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এমনকি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেনা রয়েছে। এগুলোতে দুর্নীতি তো রয়েছে। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে করপোরেশনের এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে দুর্নীতি হয়েছে। ভাউচার বিল দিয়ে অন্তত অর্ধশত কোটি টাকা উত্তোলনের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
 
নগর ভবনে নাগরিক সেবা নিতে গিয়ে নগরবাসীর হয়রানির শিকার প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, নগরবাসী তাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে করপোরেশনে গেলে হয়রানির শিকার হয়। আমি নিজেও ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার নগর ভবনের ফ্লোরে গিয়েছি। নগরবাসী আসলে তাদের নিজ হাতে কাজে সহযোগিতা করছি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে উত্সাহিত করছি, যাতে মানুষের ভোগান্তি কমে।
 
নগরবাসীর প্রধান সমস্যা সম্পর্কে মেয়র বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসাবে চি?িহ্নত করা হয়েছে। কীভাবে একটি পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলা যায় সেটি চিন্তা করা হচ্ছে। নগরীর পরিচ্ছন্ন কর্মীদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এজন্য নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে।
 
রাজস্ব আদায় প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন রাজস্ব আদায় ঘাটতি রয়েছে। উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার চেয়ে এই নগরী অনেকটাই অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। অনেক বাড়ির হোল্ডিং নম্বর অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করা হয় না। একতলা বাড়ি ভেঙে ৮/১০ তলার বাড়ি নির্মাণ করার পরও ঐ একতলা বাড়ি অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায়ে অনেক দুর্নীতি রয়েছে। সেগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। বাড়ির হোল্ডিং নম্বর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
 
নবনির্বাচিত মেয়র হিসাবে নগরবাসীদের নতুন সুবিধা দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাস্তাঘাট মেরামত করা হবে। অলি-গলির সড়ক বাতি আবারও জ্বলে উঠবে। জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট ব্যবস্থা অটোমোশন করার পাশাপাশি ওয়ান স্টপ সার্ভিস শিশু-কিশোরদের জন্য শাহবাগ পার্ক আধুনিকায়ন ও নগরীর পার্কগুলোর সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। পর্যায়ক্রমে অল্প সময়ের মধ্যে এসব সমস্যা সমাধান করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
 

উত্তর সিটি করপোরেশনের মতো দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে এখন পর্যন্ত কোনো বিশেষ বরাদ্দ মেলেনি বলে মেয়র উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সমস্যা অনেক। এই সমস্যাগুলো দ্রুত মেটানোর জন্য বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন।