রাজশাহীতে হাউজি (জুয়া) খেলার প্যান্ডেলে ফ্যান না থাকা নিয়ে স্থানীয় দুইদল যুবকের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গুলি বিনিময়ের ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।
শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টায় এই ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং হাউজির প্যান্ডেলে পুলিশ তালা ঝুলিয়ে দেয়। সংঘর্ষে মালদা কলোনীর সাইফুল ইসলামকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জেলা ক্রীড়া সংস্থার অর্থায়নের জন্য জিমনেশিয়ামে দীর্ঘদিন ধরে হাউজি পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু হাউজি খেলার প্যান্ডেলের খেলোয়াড়দের জন্য কোনো ফ্যান টাঙ্গানো হয়নি। এতে গরমে খেলোয়াড়দের সেখানে থাকতে সমস্যার কথা জানিয়ে হাউজি কমিটির কাছে ফ্যান টাঙানোর দাবি জানানো হচ্ছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেখানে ফ্যান না দেয়ায় শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কমিটির লোকজনদের সঙ্গে স্থানীয় সপুরা এলাকার আরিফ ও জুয়েলের কথা কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে কমিটির হিসাবরক্ষক সিরাজ উদ্দিন মালদা কলোনী থেকে একদল যুবককে ডেকে এনে সপুরার যুবকদের ওপর চড়াও হন। এদিকে হামলার খবর পেয়ে সপুরা থেকে আরও যুবকরা জড়ো হলে উভয়পক্ষে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এসময় শক্তি প্রদর্শনের জন্য উভয়পক্ষ কয়েক রাউন্ড পিস্তলের ফাঁকা গুলি ছুড়ে এবং সপুরার লোকজন জিমনেশিয়ামের নিচে থাকা ৫টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। তবে কেউ গুলিবিদ্ধ না হলেও ১০ জন আহত হয়।
খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্তলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি শাহাদৎ হোসেন জানান, সংঘর্ষের পর ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হাউজির প্যান্ডেলে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।