সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বাড়ান

 
 
সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে এ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে গভীরভাবে ভাবার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
 
২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর শনিবার জাতীয় সংসদে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই পরামর্শ দেন। অর্থমন্ত্রী এ সময় সংসদে উপস্থিত ছিলেন।
 
উল্লেখ্য, সংসদে সরকারি দলের প্রথম সারিতে মতিয়া চৌধুরীর ডান পাশের আসনেই বসেন অর্থমন্ত্রী।
 
অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে মতিয়া চৌধুরী বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষের প্রতি সরকারের কিছু দায়-দায়িত্ব রয়েছে। শেখ হাসিনার সরকার জনগণের সরকার, জনগণের কল্যাণ হয়-এমন কাজ করাই এই সরকারের নীতি। সুদের তুলনামূলক উচ্চ হারের জন্যই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে অনেকেই আগ্রহী। অথচ সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো হয়েছে। ব্যাংকের আমানতেও সুদের হার কম। সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোয় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত, অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারী। উল্লেখ্য, বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রে সুদের হার গত মে মাসে ২ শতাংশ কমায় সরকার।
 
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর ফলে লাখ-লাখ পরিবারের আয় কমে যাবে। আমাদের মনে রাখতে হবে সঞ্চয়পত্র কেনে অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ লোকেরা। এদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে প্রবীণদের সংখ্যা দেড় কোটির উপরে। এদের প্রতি সরকারের দায়িত্ব আছে। এরা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নাই। এরা কারও কাছে হাত পাততে পারে না। অথচ এরা মধ্যবিত্ত। এদের আয় হ্রাস করে, শিক্ষক, কর্মচারী, বিধবা মহিলা ও অবসরপ্রাপ্ত মানুষের আয় হ্রাস করে বাজার সৃষ্টি হবে কীভাবে? এদের আয় কমলে ভোগ বাড়বে কী করে? অর্থমন্ত্রীকে বলব, বিষয়টি গভীরভাবে ভাবুন।’
অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করে মতিয়া চৌধুরী আরও বলেন, সঞ্চয়পত্রে রেয়াতের ব্যবস্থা করে বরং ঋণ খেলাপিদের বিষয়ে তত্পরতা বাড়ান। অনেকে ব্যাংক থেকে শত শত কোটি টাকা নিয়ে দিচ্ছে না, তাদের বিষয়ে একটু তত্পরতা বাড়ান। আর ওই নিম্ন আয়ের মানুষের কথা ভেবে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বাড়ানোর ব্যবস্থা করুন। 
 
তিনি বলেন, আমাদের বিনিয়োগ আশানুরূপ নয়। আমাদের সঞ্চয় বাড়াতে হবে। ভোগও বাড়াতে হবে। কারণ ভোগ বাড়লে অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা তৈরি হবে। আর অভ্যন্তরীণ বাজার তৈরি হলে বিনিয়োগ বাড়বে।
 
বাজেট আলোচনায় বাজেটের সমালোচকদের সমালোচনা করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, তারা মতলবি কথা বলেন। তারা আসলে ট্যাক্স দিতে চান কি-না সেটিই সন্দেহ। প্রত্যেকবারই বাজেট নিয়ে সমালোচনা করা হয়, কিন্তু আমরা ৯৮-৯৯ শতাংশ বাজেট বাস্তবায়ন করিয়ে দেখিয়েছি। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঋণ বাজেটের অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আমরা বিদেশ নির্ভরতা কমিয়েছি, বৈদেশিক ঋণ কমাতে সক্ষম হয়েছি। উন্নয়নের স্বার্থে নিজেদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে চাই, এটাই বর্তমান সরকারের নীতি।
 
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার নিজস্ব সক্ষমতা অর্জন করছে, এ কারণে বিশ্বব্যাংকের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি। এটি নির্মিত হলে প্রবৃদ্ধি এক শতাংশ বাড়বে। বিএনপি কৃষকদের ভর্তুকির বিরুদ্ধে ছিল। আমরা ভর্তুকি দিয়েছি বলেই কৃষকরা দু’হাত উজাড় করে অকৃপণভাবে ফসলে ফসলে ভরে দিয়েছেন গোটা দেশ। সামাজিক, অর্থনীতিসহ সবদিক থেকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, বিএনপি-জামায়াত তাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা সব বাধা অতিক্রম করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবোই।
 
সুষম সার ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে
 
এদিকে সংসদে টেবিলে উপস্থাপিত প্রশ্নোত্তরে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য তাহ্জীব আলম সিদ্দিকীর এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী সংসদকে জানিয়েছেন, সারের ক্রয়মূল্য চারবার কমানোর ফলে সুষম সার ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে। বর্তমানে ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি সারের বাজার মূল্য কেজি প্রতি যথাক্রমে ১৬ টাকা, ২২ টাকা, ১৫ এবং ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
 
মন্ত্রী জানান, কৃষকদের মধ্যে উন্নত প্রযুক্তি বিস্তারে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। কৃষক পর্যায়ে সারপ্রাপ্তি সহজলভ্য করা হয়।