ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রোগীর মৃত্যুতে ক্লিনিক ভাংচুর

 
    
জেলায় এক প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিত্সকের ভুল অস্ত্রোপচারে নাসির হোসেন (৭৫) নামের এক রোগীরর মৃত্যুর ঘটনায় শনিবার সকালে স্বজনরা ক্লিনিকে ভাংচুর চালায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
 
গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় শহরের টেংকেরপাড় এলাকায় দি ন্যাশনাল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নাসির নামের ওই রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই ক্লিনিক থেকে চিকিত্সকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পালিয়ে যান। নিহত নাসির ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তর পৈরতলা এলাকার মরহুম রহিম উদ্দিনের ছেলে।
 
পুলিশ, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও নিহতের ছেলে জাকির হোসেন জানান, কিডনির ডান পাশে পাথরজনিত ব্যাথা নিয়ে গত বুধবার সন্ধ্যায় নাসিরকে ওই প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। চিকিত্সকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাথর অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন। সেই অনুযায়ী গত শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীকে ওটিতে নেয়া হয়। অজ্ঞান করার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ এ কে এম নিজাম উদ্দিন অস্ত্রোপচার করেন।
 
জাকির অভিযোগ করে বলেন, অস্ত্রোপচার কক্ষে নেয়ার আগে তার বাবা ভালো ছিল। কিন্তু চিকিত্সকের ভুল চিকিত্সার কারণে অস্ত্রোচারকক্ষেই তার বাবা মারা যান।
 
এ ঘটনার পর রাতে চিকিত্সক এ কে এম নিজাম উদ্দিনসহ ক্লিনিকের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পালিয়ে যান। শনিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে রোগীর স্বজনসহ এলাকার লোকজন এসে এ ভাংচুর চালায়।
 
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে শনিবার দুপুরে কথা হলে অস্ত্রোপচারকারী চিকিত্সক এ কে এম নিজাম উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এক ঘণ্টা ৫০ মিনিট অস্ত্রোপচার শেষে ওই রোগীকে রাত সাড়ে ১১টায় অস্ত্রোপচার কক্ষ থেকে বের করা হয়। রোগীটি দেখাশোনার ক্ষেত্রে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলা ছিল।
ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক পরিচালক মহসিন মিয়া জানান, রোগী মারা যাওয়ার পর পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে গেলে সবাই ভয়ে ক্লিনিক থেকে পালিয়ে যান। ওই রোগীর লোকজনের সাথে বিষয়টি রফাদফা হয়েছে বলে তিনি বলেন। তবে কত টাকায় দফারফা হয়েছে তার উত্তর এখন দিতে পারবেন না বলে জানান।
 
ক্লিনিকের আরেক পরিচালক আতিকুর রহমান জানান, এই ঘটনাটি পৌর মেয়র হেলাল উদ্দিনের মাধ্যমে আপোষ-মীমাংসা হয়ে গেছে।
 
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি আকুল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, মৃত্যুর ঘটনায় রোগীর স্বজনরা এসে ক্লিনিকে ভাংচুর চালায়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।
 
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন হাসিনা আক্তার বলেন, অভিযোগ পাওয়ামাত্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।