বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে এগিয়ে নিতে দুই দেশের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। আর উপ-আঞ্চলিক সংযোগের (কানেক্টিভিটি) যে পরিকল্পনা রয়েছে তা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে সংশিষ্ট দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-ভারত সর্ম্পক আজ ও আগামী’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বিশিষ্টজনেরা এ কথা বলেন।
ইন্সিটিটিউট অব কনফিক্ট, ল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস (আইসিএলডিএস) আয়োজিত গোলটেবিলে ধারণাপত্র পাঠ করেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মো. আব্দুর রশীদ।
সামিয়া জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন— ব্যারিস্টার আমির উল ইসলাম, পিকেএসএফ চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক ভিসি ড. একে আজাদ চৌধুরী, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হারুন অর রশিদ, কৃষি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, ইতিহাসবিদ মুনতাসির মামুন, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, সাবেক কূটনীতিক মোহাম্মদ জমির, সাবেক রাষ্ট্রদূত মহিউদ্দীন আহমেদ, মেজর জে. অব. আব্দুর রশিদ, ড. আনোয়ার হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমান, মানবাধিকার কর্মি খুশী কবির, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আবেদ খান, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, একাত্তর টিভির সিইও মোজাম্মেল বাবু, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, অভিনেতা পিযুষ বন্দোপাধ্যায়, ড. শফিউল আলম ভুইয়া প্রমুখ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. একে আজাদ চৌধুরী বলেন, এই উপমহাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো একটি জোট হওয়া অসম্ভব নয়। তবে এজন্য আমাদের অনেক কাজ হবে।
সুজন সভাপতি বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ভারতের সাথে আমাদের সুসম্পর্কের বিকল্প নেই। তবে আমাদের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। এ ঘাটতি কমাতে হবে।
খোন্দকার ইব্রাহীম খালেদ বলেন, নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক সফরেই সকল সমস্যার সমাধান হবে এমন চিন্তা করা ঠিক হবে না। ভারতের সাথে যেসব চুক্তি হয়েছে তা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে না পারলে আমরা লাভবান হতে পারবো না।
অধ্যাপক মুনতাসির মামুন বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে আমরা অনেক দিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। এখন আমাদের দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। বিনিয়োগ ও উন্নয়ন বাড়তে হবে। আর জঙ্গিবাদ দমনে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, ‘অসামপ্রদায়িক সম্পর্কের মাধ্যমে দুই দেশের ভিত্তি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। কেননা মানুষের সাথে মানষের সম্পর্ক টিকে অসাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে।’
সাবেক রাষ্ট্রদূত মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, এখন ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কে অনেক পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরের প্রেক্ষপটে ভারত বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে। আজও দেশের মানুষদের মধ্যে সেই ধারণা পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি। আগামীতে পানি নিয়ে বড় সংকট তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ভারত আমাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশি। সেই হিসেবে আমাদের সঙ্গে তাদের মর্যাদার সম্পর্ক রয়েছে, যেখানে উভয়ের মর্যদা সমান। পানির ব্যাপারে ভারতকে বুঝতে হবে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ।
সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান নিয়ে সরকারের প্রচার অত্যন্ত দূর্বল। ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম বলেন, ১৯৭৪ সালে ইন্দিরা-মুজিব সীমান্ত চুক্তি হয়েছে। গত ৪০ বছরে তা বাস্তবায়ন হয়নি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তা করে দেখিয়েছেন।
অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, ভারতের সাথে সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন দেখতে হবে এ থেকে আমরা কতোটা লাভবান হব। তিনি বলেন, নদীর পানি ভাগাভাগির চিন্তা বাদ দিয়ে আমাদেরকে নদী ব্যবস্থাপনার দিকে জোর দিতে হবে।