লোকে তাকে ফিনিক্স পাখির সঙ্গে তুলনা করে।
ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে উঠে এসেও যে পাখি সাফল্যেও গান শোনাতে পারে। আগের দিন বোর্ড সভাপতি বলেছেন, গতকাল সংবাদ সম্মেলনে কোচ বললেন; কথার সারমর্ম একটাই ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের এই নতুন রূপের মূল কৃতিত্ব অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজারই। সামনে থেকে অধিনায়ক যেভাবে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যেভাবে মাঠে ও ড্রেসিংরুমে সবাইকে মাতিয়ে রাখছেন; সেটাই দলকে বদলে দিয়েছে বলে দাবি করছেন কোচ।
গতকাল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় দলের প্রধান কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহে মাশরাফির কথাটা উঠতেই বিশেষ জোর দিয়ে বললেন, ‘সে (এই সাফল্যের পেছনে) খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ও এমন একজন মানুষ, যার দিকে সবাই তাকিয়ে থাকে। ড্রেসিংরুমে তার নেতৃত্ব একটা শ্রদ্ধা অর্জন করতে পেরেছে। সে মাঠে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়। আমরা যে পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি, তার পেছনে ওর ভূমিকাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
মাশরাফির এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আসাটা কিন্তু স্বাভাবিক ছিলো না। জাতীয় দলের অধিনায়ক হয়েছিলেন ২০০৯ সালে। এরপর ইনজুরিতে জর্জরিত এই দেশের সবচেয়ে লড়াকু ক্রিকেটারটির এপিটাফও লিখে ফেলেছিলেন অনেকে। সেখান থেকে আবার ফিরে এসে তিনি অধিনায়ক হবে, এমনটা কল্পনাতেও ছিলো না হয়তো। এই কাজটার কৃতিত্ব নিশ্চয়ই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)।
প্রথম ম্যাচের পর বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলছিলেন, এই সিদ্ধান্তটা ছিলো তার ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্ত, ‘আমি দায়িত্ব নেয়ার পর বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা নেয়া খুব কঠিন ছিলো। অনেকেই মনে করে সাকিবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আমার জন্য কঠিনতম ছিলো। আমি মনে করি, সেরকম না। সবচেয়ে বেশি কঠিন সিদ্ধান্ত ছিলো ওয়ানডে অধিনায়কত্ব পরিবর্তন করা। মুশফিক আমাদের সেরা পারফর্মার। সে যখন অধিনায়ক ছিলো, তখনো তার পারফর্ম অনেক ভালো ছিলো। অধিনায়ক হিসেবেও রেকর্ড ভালো ছিলো। তার বদলে সেখানে আরেকজনকে আনা সিদ্ধান্তটা ছিলো অনেক বড়। মাশরাফিকে এনেছি, কারণ সে অসাধারণ। মাশরাফি এমন একজন মানুষ, দলের মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য, মানসিকতা উন্নতি করার জন্য তাকে দরকার ছিলো। সে গ্রেট।’
মাশরাফির এই গ্রেটনেসের প্রভাব হাতে-কলমেই পাচ্ছে বাংলাদেশ। এই অভিজ্ঞ পেসার দলের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ১৫টি ম্যাচ খেলে ১২টিতেই জিতেছে। তার একটা বড় কারণ, আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা। সভাপতি এদিনও বললেন, এই আক্রমণাত্মক সব সিদ্ধান্ত মাশরাফি ও কোচই নেয়, ‘গতকালের ম্যাচের দশজন খেলোয়াড় আগে থেকেই ঠিক ছিলো। একজন পেসার পরে অতিরিক্ত নেয়া হয়েছে। তার বদলে আরাফাত সানির খেলার কথা ছিলো। সে এতোদিন ধরে অনেক ভালো পারফর্ম করেছে। তাকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়াটা সহজ ছিলো না। একজন পেসার বেশি খেলানোর সিদ্ধান্তটা মূলত মাশরাফি ও কোচের। কৃতিত্বও ওদের প্রাপ্য।’
সবমিলিয়ে বাংলাদেশ দলের এই বদলটাকে পুরো ক্রিকেট কাঠামো ও চিন্তার একটা বদল হিসেবেই দেখছেন পাপন। এখন কোনো পর্যায়েই ভয়টা কাজ করে না বলে তার দাবি, ‘আমি যে কথাটা বলতে চাচ্ছি, তা হলো যে, আপনারা সকলেই জানেন যে, আমাদের বর্তমান দল একটু আলাদা। অনেকেই ভাবে যে, এই দলে কী এমন আছে যে, তারা এতো বদলে গেলো? আসলে তেমন কিছু এখানে নেই। দুইটা জিনিস অবশ্য আছে। একটা হলো যে, যে খেলোয়াড় ফর্মে আছে, তাকে আমরা সুযোগ দিচ্ছি। নতুন হলেও ফর্মে থাকার কারণে আমরা সুযোগ দিচ্ছি। দ্বিতীয়ত আমরা প্রতিটি ম্যাচেই কিছু কিছু ঝুঁকি নিচ্ছি। আপনারা একাদশ দেখলেই তা দেখতে পাবেন। আরো একটি বিষয় হলো বাংলাদেশের এই দলে এমন কেউ নেই যে প্রতিপক্ষকে ভয় পায়। আগে যে ভয় ছিলো, ব্যাটিংয়ে ধসে পড়ার ভয় ছিলো বা বোলিংয়ে খারাপ করার শঙ্কা ছিলো, তা এখন নেই। এটা একটা দারুণ ব্যাপার।’