সেনবাগে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

নোয়াখালীর সেনবাগে মো. নিজাম উদ্দিন (২৮) নামে এক ওয়ার্কসপ ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। রবিবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে উপজেলার সেবারহাট বাজারের হ্যাপি সুপার মার্কেটের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত নিজাম উদ্দিন উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের উত্তর রাজারামপুর গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে। তিনি ওই মার্কেটের প্রিয়া মেটাল ওয়ার্কশপের মালিক।

স্থানীয় লোকজন ও নিহতের পরিবারিক সূত্র জানায়, সকালে পার্শ্ববর্তী ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়া উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের সেকান্তপুর গ্রামের সুলতান আহমেদর ছেলে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রানী আলা উদ্দিন মুন্সীর নেতৃত্বে দুইটি মোটরসাইকেল যোগে তিনজন সন্ত্রাসী উপজেলার সেবারহাট বাজারের হ্যাপি সুপার মার্কেটে এসে নিজামের চাচাতো ভাই চৌধুরীকে এলোপাতাড়ি মারধোর করতে থাকে।এ ঘটনা দেখে নিজাম এগিয়ে এসে সন্ত্রাসীদের কবল থেকে তার চাচাতো ভাই চৌধুরীকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। এ সময় আলা উদ্দিন মুন্সী এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকলে নিজাম উদ্দিন বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। গুরুত্বর আহত অবস্থায় নিজাম উদ্দিনকে উদ্ধার করে নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপতালে নেয়ার পথে বিকাল ৩টার দিকে কুমিল্ল­ার বিশ্বরোর্ড এলাকায় পৌঁছলে তিনি মারা যায়।

খবর পেয়ে সেনবাগ থানার ওসি মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে একদল পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পুলিশ সন্ত্রাসীদের ফেলে যাওয়া একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। কিন্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের কাউকে আটক বা গ্রেফতার করতে পারেনি।

সেনবাগ থানার ওসি মোস্তফা কামাল বিষয়টি নিশ্চিত করে ইত্তেফাককে জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের নাম ঠিকানা পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে নিজাম উদ্দিনের মৃত্যুর খবরে বাজারের ব্যবসায়ীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা বিকাল ৫টা থেকে টানা সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত নোয়াখালী-ফেনী মহাসড়কের সেনবাগ উপজেলার সেবারহাট বাজারে সড়ক অবরোধ করে। এতে রাস্তার দু’পাশে শত শত যানবাহনসহ বিভিন্ন ধরনের গাড়ী আটকা পড়ে। ফলে ইফতারের আগ মুহুর্তে যাত্রীরা সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হয়। পরে সেনবাগ থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।