জাফরুল্লাহর পরোয়ানা প্রত্যাহার

 
 
 
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ৫ হাজার টাকার জরিমানা দেয়ার আদেশ আপিল বিভাগ স্থগিত করলেও তা না দেয়ার অপরাধে ডা. জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে এ পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। জরিমানা স্থগিত-সংক্রান্ত আপিল বিভাগের আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি দাখিল ও পরোয়ানা প্রত্যাহারে ডা. জাফরুল্লাহ আবেদন জানালে বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির ট্রাইব্যুনাল রবিবার এই আদেশ দেন।
 
ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. আফতাবুজ্জামান বলেন, ‘আদালত পরোয়ানার আদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত ওই আদেশ স্থগিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।’
 
গত ১০ জুন আদালত অবমাননার মামলায় দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত এক সাংবাদিকের পক্ষে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয়ার দায়ে গণস্বাস্থ্য ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে কাঠগড়ায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার দণ্ড দেয় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে ৫ হাজার টাকা অর্থ দণ্ডও করা হয়।
 
ট্রাইব্যুনালের আদেশে বলা হয়—এই সাত জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করবেন তিনি। তবে সময়সীমা শেষ হওয়ার এক দিন আগেই ট্রাইব্যুনালের জরিমানার আদেশের বিরুদ্ধে সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি আবেদন আপিল বিভাগে দাখিল করেন ডা. জাফরুল্লাহ।
 
সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে চেম্বার আদালত ট্রাইব্যুনালের আদেশ ৫ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করে দেয়। একই সঙ্গে আবেদনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
 
প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চে আগামী ৫ জুলাই এই আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
প্রসঙ্গত, আদালত অবমাননার দায়ে সাজাপ্রাপ্ত নিউ এজ পত্রিকার বিশেষ প্রতিবেদনের সম্পাদক বার্গম্যানের সাজায় উদ্বেগ জানিয়ে দেশের ৫০ নাগরিক গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর বিবৃতি দেন। এরপর ১৪ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল বিবৃতিদাতার কাছে তাদের বিবৃতির বিষয়ে ব্যাখ্যা চান। পরে বিবৃতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করায় ২৬ বিবৃতিদাতাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয় ট্রাইব্যুনাল। বাকি ২৩ জনের বিরুদ্ধে গত ১ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল আদালত অবমাননার রুল জারি করে।
 

এ নিয়ে শুনানির পর ১০ জুন ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্তরা হাজির হন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাফরুল্লাহকে আদালত অবমাননার দায়ে দণ্ডাদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। তবে অবমাননার অভিযোগ থেকে ২২ বিশিষ্ট নাগরিককে ক্ষমা করে দেয়া হয়।