মুস্তাফিজের কেতন ওড়ে

দুইটি ম্যাচের মধ্যে অনেক পার্থক্য।

 
সেদিন বৃষ্টি হয়েছিলো বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মাঝামাঝি, গতকাল বৃষ্টি হলো ভারতীয় ব্যাটিংয়ের শেষ দিকে। সেদিন ভারত যাদের নিয়ে খেলতে নেমেছিলো, তার তিন জনকেই বদলে ফেললো; কিন্তু এতো বদলেও একটা জিনিস বদলালো না– মুস্তাফিজের হাতে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের নাকাল হওয়া।
 
বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার, মাত্রই কৈশোর পার করা লিকলিকে তরুণ মুস্তাফিজের আরো একটি বিধ্বংসী পারফরম্যান্সে ভর করে জয়ের দিকে তরতর করে হাঁটছে বাংলাদেশ। বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম ইনিংসে ৪৫ ওভারে ঠিক ২০০ রানে অল-আউট হয়েছে ভারত; মুস্তাফিজ ৪৩ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। আর জবাব দিতে নেমে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৪৯ রান তুলেছে বাংলাদেশ।
 
এই ম্যাচ জিতলেই নিশ্চিত হয়ে যাবে বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলা। এই ম্যাচ জিতলেই ভারতের বিপক্ষে এক ম্যাচ হাতে রেখে ইতিহাসের প্রথম সিরিজ জয় নিশ্চিত হবে।
 
টসে জিতে ব্যাটিং করতে নামা ভারতের ৪৫তম ওভারেই নামে বৃষ্টি। কয়েকবার বৃষ্টির আসা-যাওয়া মিলিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা খেলা থেমে থাকে। এরপর যখন খেলা শুরু হয়, ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ৪৭ ওভারে। সে পর্যন্তও যেতে পারেনি ভারত। খেলা শুরু হওয়ার পর একমাত্র যে বলটি করতে পারলেন, তাতে ভারতের নবম ও নিজের ষষ্ঠ উইকেট তুলে নেন মুস্তাফিজ। আর পরের ওভারে ভুবনেশ্বর কুমারকে আউট করে ইনিংস শেষ করে দেন রুবেল হোসেন।
 
ইনিংসের মাঝে বৃষ্টি বাধা দেয়ায় ডার্কওয়ার্থ লুইস মেথড প্রয়োগ করে বাংলাদেশের লক্ষ্য নির্ধারিত হয় ৪৭ ওভারে ২০০; ২০১ নয়।
 
ব্যাটিংয়ে যাই হোক, বোলিং জুড়ে ছিলো মুস্তাফিজ ও তার কাটারের দাপট। আগের দিন এই অস্ত্রে ঘায়েল করেছিলেন রোহিত শর্মা, রায়না, রাহানে, জাদেজার মতো সেট ও ইনফর্ম ব্যাটসম্যানদের। গতকাল শুরুই করলেন যেন আগের ম্যাচের শেষ থেকে। এ ম্যাচে একেবারে প্রথম ওভার থেকেই শুরু মুস্তাফিজ তাণ্ডবের। প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই মুস্তাফিজের স্বাভাবিক বেরিয়ে  যেতে থাকা বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে পয়েন্টে নাসির হোসেনের অসামান্য এক ক্যাচের শিকার হলেন রোহিত শর্মা।
 
এরপর জুটি করে এগিয়ে যেতে থাকা শিখর ধাওয়ান ও বিরাট কোহলিকে ফেরালেন এদিন হঠাত্ আবার বোলার হিসেবে ঝলসে ওঠা অফস্পিনার নাসির হোসেন। শেষমেশ নাসির ১০ ওভারে মাত্র ৩৩ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন ২ উইকেট। এরপর রুবেল দ্রুত ফেরালেন আম্বাতি রাইডুকেও। তবে এখান থেকেও দাঁড়িয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক ধোনী ও রায়না।
 
আর এই দাঁড়ানোর বিপক্ষেই রুখে দাঁড়ালেন মুস্তাফিজ।
 
রায়নাকে আরো একবার শর্ট-কাটারে চরম বিভ্রান্ত করলেন। এরপর ধোনি ও অক্ষর প্যাটেলকে পরপর দুই বলে ফিরিয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করলেন। কে জানে, এটাও রেকর্ড কি না; ক্যারিয়ারের প্রথম দুই ম্যাচেই হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করা!
 
হ্যাটট্রিক না হলেও পরের ওভারেই রবিচন্দন অশ্বিনকে আরো এক ভয়াবহ কাটারে ফিরিয়ে দিয়ে পূর্ণ করলেন নিজের ৫ উইকেট। 
 

শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির পর আবার খেলা শুরু হলে নিজের ১০ ওভার কোটা বাকি থাকা একমাত্র বলটিতে আউট করে ফেরান মুস্তাফিজ রবীন্দ্র জাদেজা। এর ভেতর দিয়ে এই ম্যাচে ৪৩ রানে ৬ উইকেট নিলেন তিনি। আর দেশের পক্ষে তৃতীয় সেরা বোলিং ফিগারের মালিক হয়ে গেলেন।