ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না তেরেজা মারান্ডীর

আমার বোনের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল। এইচএসসি পরীক্ষা শেষে ডাক্তারি পড়ার জন্য কোচিং করার কথা ছিল; কিন্তু ঘাতক ভগ্নিপতি সেই আশা পূরণ হতে দিল না। ছোট বোন তেরেজা মারান্ডীর স্বপ্নের কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন মেজো বোন শীশলিয়া মারান্ডী। তিনি ঘাতক ভগ্নিপতি সুমন হেব্রমের ফাঁসির দাবি করেন। তিন বোনের মধ্যে ছোট তেরেজা। এইচএসসির লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে কয়েকদিন হলো। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী হিসাবে ব্যবহারিক পরীক্ষাও দিয়েছে। সর্বশেষ উচ্চতর গণিত বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা ছিল গত শনিবার। ওই দিনই ঘাতক ভগ্নিপতির হাতে নির্মমভাবে খুন হতে হয়েছে মেধাবী ছাত্রী তেরেজা মারান্ডীকে। হাকিমপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজের মেধাবী ছাত্রী তেরেজা মারান্ডী এইচএসসি পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করতো বলে সহপাঠী সুইটি বেগম, রাজিয়া খাতুন ও নাসরিন আকতার জানান। রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এরফান আলী জানান, তেরেজার মতো নরম ও ভদ্র মেয়ে হয় না। উপাধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ বলেন, তেরেজা মারান্ডীর নিহত হওয়ার খবর কলেজে পৌঁছলে শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্তে কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এসএসসি পরীক্ষাতেও ভাল ফল করেছিল তেরেজা। সে কারণেই ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা ছিল তার; কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। নরঘাতক ও পাষণ্ড ভগ্নিপতি সুমন হেব্রমের হাতে নির্দয়ভাবে খুন হয় সে। ওই নরঘাতকের হাতে আরো খুন হয় মা সন্ধা রানী মারান্ডী, বাড়ি দেখাশোনা করা ফুফা মার্কেল হেব্রম ও ভাগ্নে শিশু সানী। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয় বড় বোন সিলভিয়া (সুমন হেব্রমের স্ত্রী)। বর্তমানে সিলভিয়া রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছে এবং ভাল আছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। শনিবার ভোরে পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা ইউনিয়নের ভীমপুর তালপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

একই পরিবারে চারজন খুনের ঘটনায় পরের দিনও অনেক লোকজন আসে ওই বাড়িতে। সকলের মধ্যে একটি কৌতূহল- খুনের কারণ কি! স্ত্রীর পরকীয়ার জন্য খুনের ঘটনা বলা হলেও তার পক্ষে তেমন জোরালো যুক্তি-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। খুন হওয়া সন্ধা রানীর বড় বোন মুন্নি হাসদা খুনের কারণ সম্পর্কে কিছুই বলতে পারছেন না। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচবিবি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত)  ফরিদ হোসেন বলেন, স্ত্রীর পরকীয়ায় তেমন প্রমাণ পাওয়া না গেলেও অতিরিক্ত সন্দেহ থেকে ক্ষোভ এবং খুনের ঘটনা ঘটেছে। গ্রেফতার হওয়া ঘাতক ঘরজামাই সুমন হেব্রমকে জিজ্ঞাসাবাদে অন্য কোন ক্লু পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খোকন হাসদা নামে একজনকে শনিবার রাতে আটক করা হয়েছে। চার খুনের ঘটনার পর জেলা প্রশাসক মো. আব্দুর রহিম ও পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসক সিলভিয়ার ছোট দুই শিশুর খাদ্য কেনার জন্য ১০ হাজার টাকাও প্রদান করেন। নিহত সন্ধা রানীর স্বামী ম্যানুয়াল বাদী হয়ে জামাই সুমন হেব্রমকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।