জেলার কাঁচপুর উপজেলার শিল্পাঞ্চল এলাকায় আবু সুফিয়ান শুভ (১৮) নামে এক মাদরাসা ছাত্রকে শ্বাসরোধ ও কুপিয়ে হত্যা করেছে তারই তিন বন্ধু। সোমবার সকালে কাঁচপুর উত্তরপাড়া এলাকার মমিন মিয়ার ভাড়া বাড়িতে (মেস) এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে নিহত মাদরাসা ছাত্রের তিন বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পিতা শাহিন শেখ বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছে।
জানা গেছে, উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকায় মমিন মিয়ার ছেলে রাতুল সোমবার সকালে তাদের ভাড়া দেয়া মেসের ঘর থেকে ভাড়া উত্তোলন করতে যায়। এ সময় সে ঘরের দরজা খুলতেই দেখতে পায় ওই ঘরে থাকা তিন শ্রমিক মিলে এক যুবকের লাশ বস্তাবন্দি করছে। এ ঘটনা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে রাতুল ঘরের দরজা বাহির দিক থেকে তালা দিয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাঁটুর নিচ থেকে দুই পা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ওই যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং খুনের সাথে জড়িত অভিযোগে পুলিশ নিহত যুবকের তিন বন্ধু মামুন (১৯), ইউনুস (২১) ও ইব্রাহিম মল্লিককে (২০) গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ জানায়, নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। দু পা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে ঘরের ভেতরেই শ্বাসরোধ করে হত্যার পর কুপিয়ে দুই পা বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে বস্তাবন্দি করা হয়।
নিহতের পিতা শাহিন শেখ জানায়, ঢাকা বিজ্ঞান কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য আবু সুফিয়ান শুভ গত ১৩ মে রাজবাড়ি থেকে ঢাকার জুরাইনে আমার ভাড়া বাড়িতে আসে। সে চলতি বছর রাজবাড়ির কালুখালী থানার কালুখালী মাদ্রাসা থেকে জিপিএ ৪.৯১ পেয়ে দাখিল পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় ইফতার শেষে শুভ সোনারগাঁওয়ের কাঁচপুর উত্তরপাড়া এলাকায় তার বন্ধুদের বাসায় বেড়াতে আসবে বলে বাসা থেকে বের হয়। শুভর বন্ধুরা কাঁচপুর বিসিক এলাকার ও ঢাকার বিভিন্ন গার্মেন্টে কাজ করে। তার তিন বন্ধুর বাড়িই রাজবাড়ি জেলার কালুখালি থানার বিভিন্ন গ্রামে।
সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মঞ্জুর কাদের জানান, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে তিন বন্ধুকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।