খেলা শেষে মিরপুর স্টেডিয়ামের বাইরে ভারত সমর্থক সুধীর গৌতমের উপর হামলা হয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যম দাবি করলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন সেখানে কোনো হামলা হয়নি। বাংলাদেশি সমর্থকরা তাকে টিপ্পনি কেটেছিল।
গতকাল রবিবার রাতে খেলা শেষের পর স্টেডিয়ামের গেইটের কাছে সুধীর গৌতমের উপর ‘হামলার’ খবর ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়। এদিন ভারতকে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। গ্যালারিভরতি টাইগার সমর্থকদের উল্লাসধ্বনির মধ্যে ভারতীয় সমর্থক সুধীরও খেলা দেখেছিলেন।
মুখ ও শরীরে ভারতের পতাকা এঁকে খেলা দেখতে যাওয়া সুধীর বের হওয়ার পর টাইগার সমর্থকদের তোপে পড়েন বলে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবর।
ঘটনাস্থলে থাকা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফটোসাংবাদিক আসিফ মাহমুদ অভি সাংবাদিকদের বলেন, সুধীরের উপর শারীরিক আক্রমণের কোনো ঘটনা দেখা যায়নি। স্টেডিয়ামের ২ ও ৩ নম্বর গেইটের মাঝামাঝিতে সুধীরের অটোরিকশায় ওঠার ছবিও তোলেন তিনি।
অভি বলেন, ‘খেলা শেষে পৌনে ১২টার পরপরই গেইট দিয়ে বের হওয়ার সময় বাংলাদেশের সমর্থকরা সবাই সুধীর গৌতমকে ঘিরে ‘ভুয়া ভুয়া’ বলছিল। ‘মওকা-মওকা’ বলেও টিটকারি করছিলেন কয়েকজন।’
অভি বলেন, ‘সুধীর সিএনজি ভাড়া করার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় বাংলাদেশ সমর্থকরা তাকে ঘিরে টিপ্পনী কাটতে থাকেন। ভিড় দেখে সেখানে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন পুলিশ সদস্য এসে তাকে ঘিরে রেখে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে দেয়। তখন বাংলাদেশ সমর্থকদের বেশ কয়েকজন ‘ভুয়া-ভুয়া’ বলে কিছু দূর অটোরিকশা পেছন পেছন যায়।’ সুধীরকে উদ্ধৃত করে কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার লিখেছে, বাংলাদেশের এক দল সমর্থক ভারতের এই সমর্থকের উপর হামলা চালিয়েছিল। তার অটোরিকশা লক্ষ্য করে পাথরও ছোড়া হয়।
অভি বলেন, ‘তাকে (সুধীর) শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার মতো কিছুই আমার নজরে পড়েনি।’ ভারতীয় ক্রিকেট দল ও শচীন টেন্ডুলকারের জন্য জীবন উত্সর্গের ঘোষণা দেওয়া সুধীরের ঘটনাটিকে ‘হামলা’ বলে ভারতের প্রায় প্রতিটি সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে।
ভারতের খেলা দেখতে এনিয়ে অষ্টমবার ঢাকায় এসেছেন সুধীর। মিরপুর থানা পুলিশও বলছে, ভারতীয় সমর্থকের উপর হামলার কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার কাইয়ুমউজ্জামান বলেন, স্টেডিয়ামসহ পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল পুলিশ। অত্র এলাকায় কারও উপর হামলা বা আক্রমণ হয়েছে, তা আমার জানা নেই।
এদিকে এই খবরটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন ওঠার কারণ এবিপি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলে পোস্ট করা একটি ভিডিও।
‘ভারতের জনপ্রিয় সমর্থক সুধীর গৌতম কথা বলছেন এবিপি নিউজের সঙ্গে’ শিরোনামে এবিপি নিউজের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিওটিতে ছবি পোস্ট করার তারিখ দেখা যাচ্ছে ২১ জুন, ২০১৫।
ভিডিওটির বর্ণনাতে লেখা হয়েছে, ‘ভারতের জনপ্রিয় সমর্থক সুধীর গৌতম কথা বলছেন এবিপি নিউজের সঙ্গে। ঢাকায় দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচের পর তিনি আক্রমণের শিকার হন।’ কিন্তু ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে সুধীর কথা বলছেন দিনের বেলায়।
অনেকেরই প্রশ্ন, ২১ জুন রাতে শেষ হয়েছে ম্যাচ। খবরের ভাষ্য অনুযায়ী এরপর আক্রমণের শিকার হন সুধীর। কিন্তু তিনি এ নিয়ে কথা বলছেন দিনের বেলায়। তাহলে ভিডিওটি গতকালের হওয়ার কথা।
অর্থাত্ ২২ জুন। কিন্তু ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, সেটি পোস্ট করা হয়েছে ২১ জুন। স্বাভাবিকভাবেই অনেকেই দাবি করছেন, ইচ্ছে করেই এমন খবর তৈরি করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।