‘বাংলাওয়াশের গর্জনে বিপন্ন ব্র্যান্ড ধোনি’

নিউজিল্যান্ডকে দিয়ে শুরু। একে একে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে এবং পাকিস্তান হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। এবার বাংলার টাইগাররা চোখ রাঙাচ্ছে ভারতকে। রবিবারের দিবারাত্রির ম্যাচে ভারতকে ছয় উইকেটে হারিয়ে ইতিমধ্যে সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ভারতের সাথে এটাই প্রথম সিরিজ জয় বাংলাদেশের। এই সিরিজ নিয়ে প্রথম থেকেই ব্যাপক আলোচনা চলেছে দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে। বিশেষ করে সিরিজ হারের পর ভারতীয় দলের সমালোচনায় মেতেছে ভারতীয় গণমাধ্যম। টানা দুই ম্যাচ হারের পর ক্ষোভ যেন একটু বেশিই উগড়ে দিলো ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো। প্রেস কনফারেন্সে মহেন্দ্র সিং ধোনির অধিনায়কত্ব ছাড়া না ছাড়ার বক্তব্য ফলাও করে প্রচার করেছে ভারতের গণমাধ্যমগুলো। পাশাপাশি বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের বন্দনাও দেখা গেছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে।

 
ভারতের ক্রিকেট খেলা মানে আনন্দবাজার পত্রিকার তাত্পর্যপূর্ণ খবর। রবিবারের হারের পরদিন আনন্দবাজারের খবরেও বিষণ্নতার ছাপ। ‘বাংলাওয়াশের গর্জনের সামনে বিপন্ন ব্র্যান্ড ধোনি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ভারতের হারার চুলচেরা বিশ্লেষণের সাথে আছে বাংলাদেশের প্রশংসা। প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়েছে, ‘বিশ্ব ক্রিকেটের ‘বড়দা’ হয়েও তাঁর (ভারত) টিমের প্লেয়াররা মেজাজ হারিয়ে ফেলে চাপে পড়লো। প্রতিপক্ষের সঙ্গে অহেতুক তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়ে। টিপ্পনী ছোঁড়ে। এত দিন যে তেতো ওষুধ বিপক্ষকে গিলিয়ে থাকতেন দেশের মাঠে, তা বাঘের ডেরায় এখন ওত পেতে নির্নিমেষ অপেক্ষা করছে তাঁরই জন্য। তাঁর টিমের জন্য। নামটা শুধু আলাদা। ব্রাউন নয়, বাংলাওয়াশ!’
 
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটা টিম আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে দুইয়ে। অন্য টিমটা সাত নম্বরে। সাধারণ ক্রিকেট-বোধ বলে প্রথম ম্যাচ যদি কোনোভাবে হেরেও যায় র্যাঙ্কিংয়ে দুই নম্বর, তা হলে পরেরটায় সে ফিরে আসবে প্রত্যাঘাতের চাবুক নিয়ে! বিপক্ষকে চূর্ণ করে অক্ষত রেখে দেবে সম্মানের তাজ। আর সম্মান! যে ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল ধোনিদের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচ, সেখানে ভারতবর্ষ তার সেরা এগারোর থেকে ‘উপহার’ পেল কুত্?সিততম পারফরম্যান্স। ব্যাটিংয়ে, বোলিংয়ে, ফিল্ডিংয়ে। আচার-ব্যবহারে।
 
আনন্দবাজারের খবরে আরো বলা হয়েছে, কিছু ভাবতে না পেরে মাঠে শুধু লাফাতেই শুরু করে দিলেন মাশরাফি মর্তুজা। কে বলবে, তাঁর হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের সংখ্যা এক নয়, দুই নয়, ছয়! উনিশের এক পেসারকে (মুস্তাফিজুর) দেখা গেল এ বার এক ঝলক। অধিনায়কের সিংহ-হূদয়ে মুখ লুকিয়ে। বাংলাদেশের এই বাঁ-হাতি পেসার নিঃসন্দেহে মারাত্মক প্রতিভা। আজকের পর মুস্তাফিজুর রহমানকে অনায়াসে সাতক্ষীরা ‘সায়নাইড’ বলে ডাকা যেতে পারে। গত পাঁচ দিনে দু’টো ম্যাচ খেলে এগারোটা উইকেট নিয়েছেন। গর্ব করার মতো, কলার তুলে হাঁটার মতো পারফরম্যান্স।
 
বিবিসি বাংলাকে সাক্ষাত্কার দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়া সাংবাদিক গৌতম ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ভারত দল প্রথমে মনে করছিল তারা বাংলাদেশে আসবে, খেলবে এবং জিতে চলে যাবে। সেদেশে সবাই এখন বলতে শুরু করেছে আত্মতুষ্টির মাশুল দিয়েছে ভারত এবং সেটা ভালো হয়েছে। তারা এতটাই আত্মতুষ্টিতে ভুগছিল যে প্রথমে সেরা দলটি পাঠাতে চায়নি। আর বাংলাদেশের সেরা দলের কাছে ভারতের সেরা দলই হেরেছে। খুবই নতজানু হয়ে হেরেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দল ওয়ানডে ক্রিকেটে একটি ভালো টিম হয়ে উঠছে। এই টিমকে যারা যারা উপেক্ষা করবে যারা যারা আত্মতুষ্টিতে ভুগবে তাদের আজকের ভারতের মতো বুড়িগঙ্গায় যেয়ে পড়তে হবে।
 
ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, মুস্তাফিজুরের বলে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়। আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভীতিহীন বাংলাদেশের দুর্লভ ধারাবাহিক জয় উদযাপন। পত্রিকাটির অনলাইনে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধোনির পদত্যাগের প্রস্তাব, সাবেক খেলোয়াড়েরা তার অপসারণ চান না।
 
এনডিটিভির অনলাইনে প্রকাশিত এক সংবাদে সাবেক ভারতীয় খেলোয়াড় ভিষান সিং যাদবকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ধোনি এখন আর ক্যাপ্টেন কুল নেই, তার যোগ ব্যায়াম দরকার। আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের রেকর্ড করেছে। আরেক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ দলের পারফর্মেন্সের দারুণ প্রশংসা করেছেন ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনিল গাভাস্কার। একইসঙ্গে ব্যর্থতার জন্য নিজ দেশ ভারতের সমালোচনা করেছেন তিনি। টাইগারদের এই সফলতায় অভিবাদন জানিয়ে সুনিল গাভাস্কার বলেছেন, ‘বাচ্চারা বড় হয়েছে।’
 
ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকার অনলাইনের এক খবরে বলা হয়েছে, মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিংয়ে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে সিরিজে ২-০ তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। পত্রিকাটিতে ধোনির পদত্যাগের প্রস্তাবের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
 

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয়েছে ‘ছেলেরা ভীতিহীন ক্রিকেট খেলেছে: মতুর্জা’। আর হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কাছে সিরিজ হার ভারতের ক্রিকেটের জন্য এক কর্কশ ও তিক্ত বাস্তবতা। বাংলাদেশি খেলেয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ও আরো কিছু ইতিবাচক দিকের সমন্বয় তাদেরকে শক্ত টিমে পরিণত করেছে।