মাছের দেশে মাছের আকাল

মাছের জন্য বিখ্যাত কুলিয়ারচর উপজেলায় এখন মাছের আকালে পড়েছে। এক সময় কুলিয়ারচরের মাছ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে এলাকার চাহিদা মিটাতে পারছে না। বর্ষা শুরু হলেও কোথাও মিলছে না মাছের দেখা। ভাটির প্রবেশ দ্বার হিসেবে খ্যাত কুলিয়ারচরে হাওড় অঞ্চলের সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার প্রচুর মাছ আমদানি হতো।

 
দীর্ঘদিন থেকেই কুলিয়ারচরের কালী নদীর তীরে গড়ে উঠেছে মত্স্য আড়ত। প্রায় ৬৫টি আড়তে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার মাছ বিক্রি হতো। কুলিয়ারচরের মাছকে সারা বিশ্বে পৌঁছে দিতে রেল স্টেশনের কাছে গড়ে উঠেছে কুলিয়ারচর কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড। বর্তমানে মাছের অভাবে আড়তদাররা অলস সময় কাটাচ্ছেন। কুলিয়ারচরে দেশি জাতের মিঠা পানির মাছ সারা বাংলাদেশে জনপ্রিয়। এ জন্য কুলিয়ারচরে মাছ কেনার জন্য বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা আড়তে আসত।
 
মাছ ব্যবসায়ী নিশিকান্ত দাস জানান, প্রায় কোটি টাকা দাদন দিয়ে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে মাছের আড়তে কর্মরত শ্রমিকরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, বেশ কয়েকটি কারণে মাছ কমে গেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো— বিভিন্ন নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া, কারেন্ট ও মশারি জালের অবাধ ব্যবহার, যত্রতত্র পাটি বান, অবাধে পোনা মাছ নিধন ইত্যাদি।
 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যদি সরকার কঠোরভাবে মত্স্য আইন প্রয়োগ করে কারেন্ট জাল ও মশারি জাল ব্যবহার নিষিদ্ধ করে তবে মাছ উত্পাদন বৃদ্ধি পাবে বলে মত্স্য ব্যবসায়ীরা মনে করেন। অন্যদিকে দূর হবে কুলিয়ারচরে মাছের অভাব। উপজেলার সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা প্রণব কুমার কর্মকার সাংবাদিকদের জানান, যদি সরকারি আইন যতাযতভাবে প্রয়োগ করা যায়, নদী খনন করে নাব্যতা বৃদ্ধি করা যায় এবং পোনা নিধন বন্ধ করা যায় তবে মাছের আকাল দূর করা সম্ভব।