উজানে নাও ঠেলেই দেশ এগিয়ে নিচ্ছে আওয়ামী লীগ

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও আওয়ামী লীগ একই সূত্রে গাথা। স্বাধীনতা থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি বড় অর্জন ও অগ্রযাত্রা আওয়ামী লীগই এনে দিয়েছে। তিনি বলেন, জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত নানা প্রতিকূলতা, ঘাত-প্রতিঘাত ও অপপ্রচার মোকাবেলা করে উজানে নাও (নৌকা) ঠেলেই গণমানুষের দল আওয়ামী লীগ দেশকে অভীষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনীতি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়াসহ সবক্ষেত্রেই এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ আজ দৃষ্টান্ত। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার পর বিশ্বের যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ঠাট্টা করেছিল, আজ তারাই স্বীকার করে বলছে, উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়ে উঠা বাংলাদেশ কোনদিন পিছিয়ে যাবে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। দেশের এই অগ্রযাত্রা কেউ রুখতে পারবে না।

 
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শুরুতে পয়েন্ট অব অর্ডারে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশবাসী ও দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাসই হচ্ছে বাঙালি জাতির জন্য ত্যাগ-তিতিক্ষার ইতিহাস। আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় শক্তিই হচ্ছে জনগণ। এ কারণে অতীতে বহুবার আওয়ামী লীগকে ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন করার অনেক ষড়যন্ত্র ও চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি। আগামীতেও কেউ সফল হবে না। কারণ দেশের জন্য অনেক ত্যাগের কারণেই জনগণের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে আওয়ামী লীগ।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ তৃণমূল থেকে আদর্শ নিয়ে গড়ে উঠেছে। আর আদর্শ নিয়ে গড়ে উঠা দলকে যে শেষ করা সহজ নয়, নিশ্চিহ্ন করা যায় না, তা গত ৬৬ বছরে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সরকারগুলো আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে নানা অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। কিন্তু দেশের মানুষ বিভ্রান্ত হয়নি। আওয়ামী লীগের পাশে তারা সব সময়ই থেকেছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নীতি-আদর্শই হচ্ছে জনগণের কল্যাণ, উন্নতি ও তাদের উন্নত জীবনদান। এ লক্ষ্য নিয়েই আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে। দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটু সময় দিন আমরা দেশকে অভীষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে যাব। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশকে শান্তিপূর্ণ, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবোই ইনশাল্লাহ। এ জন্য তিনি দেশবাসীর সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।
 
শেখ হাসিনা বলেন, এই উপমহাদেশে যতগুলো পুরনো দল রয়েছে, তার মধ্যে আওয়ামী লীগ অন্যতম। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল। সেই সূর্য উদিত করতেই ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগের জন্ম। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬৬’র ছয় দফাসহ প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে আওয়ামী লীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীকে সীমাহীন নির্যাতন, জেল-জুলুম সহ্য করাসহ অনেককে জীবন দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে আওয়ামী লীগ নামকরণ করা হয়। সেই অসাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়েই দেশ গড়ার কাজ করছে এই সরকার।
 

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ যে পারে এবং পারবে তা প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রমাণ দিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ভারতের সঙ্গে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ যে বেঙ্গল টাইগারদের দেশ, ক্রিকেটেও তার প্রমাণ দিয়েছি। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দেশকে আমরা পরাজিত করেছি। বাঙালি জাতি বরাবরই প্রমাণ দিয়েছে যে তাদের একটু সুযোগ দিলে তারা যেকোন অসাধ্য সাধন করতে পারে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বিশ্বের বুকে উন্নত-সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। অনির্ধারিত এ আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।