ইয়াবা আটকের পর আত্মসাত্ এবং ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মঙ্গলবার ডিবির ওসিসহ ১০ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। তাদের অপকর্মের ঘটনা এখন মানুষের মুখে মুখে। ইয়াবা আটকের পর তা আত্মসাত্, নিরীহ মানুষকে ইয়াবা দিয়ে হয়রানিসহ নানা গুরুতর অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। অনেকের মতে, পুলিশের নিম্ন পর্যায় থেকে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত আরো অসংখ্য পুলিশ সদস্য ইয়াবা কেলেঙ্কারিতে জড়িত। শীর্ষ পর্যায় থেকে আস্কারা পেয়ে তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠেছিল।
সম্প্রতি ফেনীতে উদ্ধার ইয়াবাগুলো কক্সবাজার ডিবির এসআই বিল্লাল হোসেনের বাসা থেকে গিয়েছিল বলে র্যাবের কাছে ইতিমধ্যে স্বীকারোক্তি দিয়েছে এ ঘটনায় গ্রেফতার এএসআই মাহফুজ। তিনি আরো ৬ জন পুলিশ সদস্যের নামও প্রকাশ করেছেন। এদের মধ্যে কক্সবাজার জেলায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের বদলি করা হয়েছে। তবে তাদের বাসায় ইয়াবা উদ্ধারে কোন তল্লাশি চালানো হয়নি। অথচ এসআই বিল্লালের বাসা থেকে শুধু ঢাকা নয়, কক্সবাজারের ব্যবসায়ীরাও ইয়াবা সংগ্রহ করত।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বদলি হওয়াদের মধ্যে কক্সবাজার ডিবির বহুল আলোচিত এসআই বিল্লাল হোসেন প্রতি রাতে মাইক্রোবাসে করে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক ও সমুদ্র তীরবর্তী মেরিন ড্রাইভে যানবাহনে তল্লাশি চালাতেন। এছাড়াও কক্সবাজার জেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালাতেন ইয়াবা উদ্ধারে। উদ্ধার অভিযানে সাফল্য পাওয়া গেলেও বেশিরভাগ ইয়াবা তারা আত্মসাত্ করতেন। ইয়াবা উদ্ধার কম দেখিয়ে আসামিকে চালান দিতেন। গত কয়েক মাসে তাদের হাতে ইয়াবাসহ আটক আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলে মন্তব্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একটি সূত্রের।
সূত্রটি জানায়, এসআই বিল্লাল হোসেনের বাসায় মজুদকৃত ইয়াবাগুলো শুধু ডিবির উদ্ধারকৃত নয়; বরং পুরো কক্সবাজারের বিভিন্ন থানায় উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলোর আত্মসাত্কৃত অংশ ঢাকায় পাচারের জন্য তার বাসায় রাখা হতো। জেলায় পুলিশের উদ্ধারকৃত ইয়াবার অধিকাংশই আত্মসাত্ করা হতো। আবার দাবিমত অর্থ পেলে ইয়াবাসহ আসামি ছেড়ে দেয়া হতো। বর্তমানে খোলা বাজারে প্রতিবড়ি ইয়াবা ৩শ’ টাকা দরে বিক্রি হলেও এসআই বিল্লাল সিন্ডিকেট তা বিক্রি ৫০ টাকা থেকে ৭০ টাকা দরে। এসআই বিল্লাল শহরের শহীদ সরণির (সার্কিট হাউস রোড) অভিজাত ভবন আমির আলী ম্যানশনে ভাড়া বাসায় থাকতেন। শনিবারের ঘটনার পর বাসাটি তালাবদ্ধ রয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, পুলিশের আত্মসাৎ করা ইয়াবাগুলো শুধু বিক্রি করা হত না, প্রয়োজনে কাউকে ফাঁসানোর কাজেও ব্যবহার করা হতো। মঙ্গলবার বদলি হওয়া এসআই কামাল প্রকাশ লাল কামাল শত্রুতাবশত অনেককেই ফাঁসিয়েছেন ইয়াবা মামলায়। আবার ইয়াবা দিয়ে চালানের ভয় দেখিয়ে নিরীহ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদাবাজিও করতেন। এরমধ্যে দুজন উচ্চ শিক্ষিত যুবকও রয়েছে।
গত ১৮ ডিসেম্বর শহরের গনি রেস্তোরাঁয় চেয়ারে বসা নিয়ে এসআই কামালের সাথে তর্ক হয় কক্সবাজার কলেজ থেকে সদ্য মাস্টার্স পাস যুবক উখিয়ার পালঙ্খালীর মিজানুর রহমান ও রহমতের বিলের মোহাম্মদ তারেকের। এরই জের ধরে এসআই কামাল তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং ২শ’ পিস করে ইয়াবা দিয়ে মামলা করে আদালতে চালান দেয়া হয়। পরে দীর্ঘদিন জেল খেটে তারা জামিনে ছাড়া পান। এসআই কামালের বদলি হওয়ার খবর পেয়ে ফোন করে তারা প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আল্লাহ বিচার করেছেন’। এদিকে সোমবার ভোররাতে ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ৩ নারী আটকের ঘটনাটিও সাজানো বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
উল্লেখ্য, এর আগেও চকরিয়া থানার এক এসআই ও এক কনস্টেবল প্রায় ২ লাখ ইয়াবাসহ চট্টগ্রামে আটক হয়।