ছয় দিনেও ডুবে যাওয়া ওয়াগন উদ্ধার হয়নি

বোয়ালখালীতে ভেঙে পড়া রেলসেতু মেরামত কাজ শেষ না হওয়ায় দুর্ঘটনার ছয়দিনেও পানিতে ডুবে থাকা তেলবাহী ওয়াগন উদ্ধার করা যায়নি। রেলওয়ে কর্মকর্তাদের দাবি- বৃষ্টিতে সেতু মেরামত কাজে বিলম্ব হয়েছে। এজন্য ওয়াগন উদ্ধার কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। তবে সেতুর কাজ মোটামুটি শেষ দিকে। আজ বৃহস্পতিবার ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে। এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর হালদা ও কর্ণফুলী নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে দেখছে। কোথাও কোন মাছ ও প্রাণীকূলের ক্ষতি হচ্ছে কিনা  সে ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করছে তারা।

 
ক্ষতিগ্রস্ত রেলসেতু মেরামত প্রসঙ্গে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় ম্যানেজার মফিজুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘সেতুর মেরামত কাজ শেষ হয়েছে। এখন ট্রায়াল দেয়া হচ্ছে। তারপর ট্রেন চলাচল শুরু হবে। ট্রেন চলাচল শুরু হলে খালে ডুবে থাকা তেলবাহী ওয়াগন উদ্ধার কার্যক্রম চলবে।’
 
সরেজমিনে দেখা গেছে, অয়েল বুম দিয়ে তেল অপসারণ কাজ এখনো চলছে। তবে খালে নৌ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জোয়ারের সময় অয়েল বুম তুলে রাখা হচ্ছে। ভাটার সময় নামিয়ে তেল অপসারণের কাজ চলছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি টিম খাল থেকে তেল অপসারণ ও নমুনা সংগ্রহসহ পরিবেশ সংক্রান্ত পুরো বিষয়টি মনিটরিং করছে।
 
এ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন ইত্তেফাককে বলেন, ‘আগের তুলনায় পানিতে ফার্নেস অয়েলে ক্ষতির মাত্রা কমে এসেছে। তবে ঘটনাস্থলে এখনো ক্ষতিকর মাত্রার পরিমাণ বেশি।’ তিনি বলেন, ‘ডুবে থাকা তেলবাহী ওয়াগন উদ্ধারের সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যাতে ট্যাংক থেকে তেল বের না হয়। এই ঘটনায় পরিবেশের ক্ষতির বিষয়টি নিরূপণ করতে আরো সময় লাগবে।’
 
এদিকে রেলের ওয়াগন থেকে ফার্নেস অয়েল ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশ দূষণের ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন চট্টগ্রামের পরিবেশ সংগঠকরা। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে জলাশয়-জলাধার রক্ষা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে তারা এ দাবি জানান। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক ও পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট রেহেনা বেগম রানু।
 
মানববন্ধনে পরিবেশ সংগঠকরা বলেন, দুর্ঘটনার পর তেল ছড়িয়ে কর্ণফুলী হয়ে হালদা নদীতে চলে গেলেও রেল কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। যে সেতুটি এক দশক আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে সেই সেতু দিয়ে কিভাবে ট্রেন চলে। বক্তারা বলেন, ফার্নেস অয়েল ছড়িয়ে পড়ে কর্ণফুলী-হালদার মত্স্য সম্পদসহ জীববৈচিত্র্যের অপরিসীম ক্ষতি হয়েছে। হালদার মা মাছের অভয়াশ্রম হুমকির মুখে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর দায় রেল কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারেন না।
 
মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ইঞ্জিনিয়ার রশিদ আহমেদ, পরিবেশবিদ ইদ্রিস আলী, সাংবাদিক এম নাসিরুল হক, চসিকের নগর পরিকল্পনাবিদ রেজাউল করিম প্রমুখ।
 

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর বেঙ্গুরা ও পটিয়ার ধলঘাট এলাকার মাঝামাঝি একটি সেতু ভেঙে ইঞ্জিনসহ তিনটি তেলবাহী ওয়াগন খালে পড়ে যায়। এরমধ্যে দুইটি ওয়াগন বোয়ালখালী খালে ডুবে গেছে। ওয়াগনে মজুদ ফার্নেস অয়েল কর্ণফুলী হয়ে হালদা নদী পর্যন্ত আশপাশের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন।