ছিটমহলবাসী কে কোন দেশের নাগরিকত্ব পেতে চান তা আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে জানাতে দুই দেশের সরকার আদেশ জারি করেছে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত রবিবার এই আদেশ জারি করে। এছাড়া ওই সময় পর্যন্ত ছিটমহলের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিনিময়, ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ রাখারও আদেশ দেয়া হয়েছে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে।
গত ১৬ জুন কলকাতায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত জয়েন্ট বাউন্ডারি ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই আদেশ জারি করা হয়। এ বৈঠকে আরও যেসব সিদ্ধান্ত হয় সেগুলো হচ্ছে: ছিটমহল ও ছিটমহলবাসীর তথ্য সংগ্রহের জন্য ভারতীয় ২৫টি ও বাংলাদেশের ৫০টি দল কাজ করবে। আগামী ৫ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত এ তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে। এ সময়েই তথ্য সংগ্রহকারী দলকে জানাতে হবে ছিটমহলবাসী কে কোন দেশের নাগরিকত্ব চান বা কোথায় থাকতে চান। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় এই বিনিময় কার্যক্রম ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত করা যাবে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক) আবু হেনা রহমতুল মুমিন নেতৃত্ব দেন। পক্ষান্তরে ভারতের পক্ষে নেতৃত্বে দেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, যারা জমি বিনিময় করে বাংলাদেশ থেকে ভারতে বা ভারত থেকে বাংলাদেশ আসতে চান তাদের সহায় সম্পদ স্থানীয় প্রশাসনের কর্তৃত্বে রাখা হবে। বিনিময় পুরোপুরি কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা পরিবার প্রশাসনের কাছ থেকে বিনিময় হারের অর্থ বা সম্পদ সংক্রান্ত দলিলপত্র বুঝে নেবে। দালালদের খপ্পর থেকে ছিটমহলবাসীকে নিরাপদ রাখতে বিনিময় হবে প্রশাসনের কর্তৃত্বে। সোমবার থেকে ছিটমহলবাসীর অধিকার সম্পর্কে প্রচারণা শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। বিনিময়কারীরা বাংলাদেশের চিলাহাটি, ওপাশের হলদিবাড়ী, বুড়িমারী-চেংড়াবান্দা এবং বাংলাবান্দা-ফুলবাড়ী সীমান্ত পথ ব্যবহার করতে পারবেন।
এক প্রশ্নের জবাবে জনাব মুমিন বলেন, নাগরিত্ব প্রদানের বিষয়টি সময় সাপেক্ষ এবং আইনের বিষয় জড়িত। এ ছাড়া ভূমির মালিকানা নিশ্চিত করতে হলে সেখানে হালনাগাদ জরিপ চালিয়ে রেকর্ড সংশোধনের কাজ করতে হবে। রেকর্ড সংশোধন হলে তাদেরকে জমির মালিকানা সংক্রান্ত পরচা বা অন্যান্য দলিলাদি হস্তান্তর করা যাবে। প্রসঙ্গত, আগামী ৩১ জুলাই থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অমীমাংসিত ছিটমহলের বিনিময় হবে। ২০১১ সালের জরিপকে ভিত্তি ধরে ছিটমহল বিনিময়ের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এখন বাংলাদেশের মধ্যে থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহল পাবে বাংলাদেশ। এখানে জমি আছে ১৭ হাজার ১৬০ একর এবং মানুষ আছেন ৩৭ হাজার ১৮৬ জন। এগুলো বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড় জেলার অভ্যন্তরে।
পক্ষান্তরে ভারত পাবে ৫১টি ছিটমহল, যেখানে জমির পরিমাণ ৭ হাজার ১১০ একর আর মানুষ আছেন ১৪ হাজার ৯০ জন। ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত আদম শুমারি ধরে বিদ্যমান হিসাব দেয়া হচ্ছে। তবে হাল জরিপে এ সংখ্যা কমবেশি হতে পারে।
এদিকে বাংলাদেশের প্রাপ্য ছিটমহলের সার্বিক উন্নয়নে এবারের বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিনিময়কাজ সম্পন্ন হলে অবকাঠামোসহ সার্বিক উন্নয়ন কাজ শুরু হবে। গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে ছিটমহলের জন্য করণীয় সম্ভাব্য কার্যক্রমও নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।