বৃষ্টি জলাবদ্ধতা যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী

রাসেল স্কোয়ারে ঢুকেছি দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে হোটেল সোনারগাঁওয়ের মোড় পেরিয়েছি ৪ টা ২০ মিনিটে। রাস্তার জ্যাম কেমন আর কিছু বলতে— প্রাইভেটকারের জানালার ফাঁক দিয়ে অসহায় কণ্ঠে বললেন শওকত নেওয়াজ খান। এই একটি ঘটনাতেই বুঝিয়ে দেয় পথচলতি মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগের অবস্থা। তবে সবেচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষরা।

 
এই কদিন আগেও প্রচণ্ড দাবদাহে মানুষের জীবন হয়ে উঠেছিল অতিষ্ঠ আর এখন সূর্যের দেখা পাওয়াই যায় না। তবে আবহাওয়া অফিস খুশির খবরও জানাচ্ছে যে, আজ দেশের কোথাও কোথাও সূর্যের দেখাও মিলতে পারে।দেশব্যাপী প্রবল বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যন্ত। গত দুইদিনের বৃষ্টি আর যানজট স্থবির করে দিয়েছে রাজধানীর জীবনযাত্রা। রাজধানী ঢাকায় গতকাল দিনজুড়েই ছিল বৃষ্টি। বর্ষণে অনেক এলাকায় রাস্তায় পানি জমে মানুষের দুর্ভোগ পৌঁছেছিল চরমে। গতকাল শনিবার ছুটির দিনেও রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে যানজটে আটকা পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে ছিল যাত্রীরা। যানবাহন চলাচলে দেখা দেয় অনেকটা স্থবিরতা। যানজটের কারণে যাত্রীরা তাদের গন্তব্যে সময়মতো পৌঁছাতে পারেনি।
 
রাজধানীর মতিঝিল, ফকিরাপুল, মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে, রাজারবাগ, শান্তিনগর, রামপুরা, মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর, রূপনগর, শ্যাওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মালিবাগ, মৌচাক, তালতলা, খামারবাড়ী ও খিলগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে যায়। বিমান বন্দরের কাছে নিকুঞ্জ-২ আবাসিক এলাকার অনেক রাস্তা হাঁটু পানির নিচে চলে গেছে। এছাড়া রায়েরবাজার, শংকর, জিগাতলার অনেক রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় মানুষের দুবির্ষহ দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
 
এদিকে বৃষ্টি ও যানজটের কারণে রিকশাভাড়া বেড়েছে অবিশ্বাস্য হারে। সামনে ঈদ বলে মানুষের চলাচল বেড়েছে। দোকানপাটে অনেক ভিড়। যানজট সামলাতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাসে তিরিশ মিনিটের পথ যেতে দুইঘন্টা লাগছে।
 
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর-বঙ্গোপসাগরে অতিপ্রবল অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশ ও তত্সংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপ অবস্থান করছে।
 
এদিকে গতকাল শনিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকায় ১৫ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া টেকনাফে ২১ মিমি, কক্সবাজারে ২১ মিমি, চট্টগ্রামে ১১ মিমি, ভোলায় ২১ মিমি এবং সিলেটে ৭ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। বৃষ্টির ফলে দেশের নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
 

মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রাম বিভাগে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, গত শুক্রবার সকাল থেকে গতকাল সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় চট্টগ্রামে ৬৭ মিমি, সন্দ্বীপে ৬১ মিমি, কক্সবাজারে ২৬৩ মিমি, কুতুবদিয়ায় ৯৪ মিমি, টেকনাফে ২৩২ মিমি ও সীতাকুন্ডে ৭৮ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।