কোথাও দেওয়াল থেকে চাকলা খসে পড়ছে। কোথাও বা ছাদ থেকে টপটপ করে চুইয়ে পড়ছে পানি। অ্যাসবেসটসগুলো পুরনো হতে হতে প্রায় ঝুরঝুরে। ওয়্যারিং বদলানো হয়নি বছর পঞ্চাশেরও বেশি সময়।
নাহ! গরিব দেশে অবহেলায় পড়ে থাকা কোনও পুরনো বাসভবন বা আজন্ম মেরামতি না হওয়া সস্তার মেসবাড়ি নয়। এই অবস্থা লন্ডনে, বাকিংহাম প্যালেসের! হ্যাঁ, এটি সেই প্রাসাদ, যা প্রায় দু’শো বছর ধরে ইংল্যান্ডের রাজপরিবারের সরকারি বাসভবন। ইতিহাস বলছে, গত দু’শো বছরে একবারের জন্যও ইংল্যান্ডের রাজা এবং রাণী এই বাকিংহাম প্রাসাদ খালি করে অন্য কোথাও নিজেদের থাকার বন্দোবস্ত করেননি। এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিদের লাগাতার বোমাবর্ষণের সময়ও নয়। কিন্তু প্রাসাদের অবস্থা এতটাই বেহাল যে এবার বোধহয় সরতে হবে ইংল্যান্ডের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ এবং ডিউক অফ এডিনবরাকে। সংস্কার হলে তারা আবার ফিরতে পারবেন সেখানে।
বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বাকিংহামের সংস্কারের জন্য খরচ পড়বে দেড়শ মিলিয়ন পাউন্ডের উপর। শুধু তাই নয়, বিশাল এই প্রাসাদের কাজটা ঠিকভাবে হতে গেলে প্রাসাদ ফাঁকা করে দিতে হবে। আর সে ক্ষেত্রে ১৮৩৭ সালে ব্রিটেনের রাজপরিবারের সরকারি বাসভবন ঘোষিত হওয়ার পর এই প্রথম কোনও রাজা বা রাণীকে বাকিংহাম ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে থাকতে হবে। বাকিংহাম প্যালেস সূত্র জানায়, রাণী এবং ডিউক অফ এডিনবরা প্রাসাদ ছেড়ে উইন্ডসর ক্যাসেলে যাবেন কি না, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে।
জানা গেছে, ১৯৫০ সালের পর থেকে বাকিংহাম প্রাসাদের তেমন কোনো সংস্কারই হয়নি। বাধা ছিল দু’টি। প্রাসাদের আয়তন এবং খরচ। বিশাল এই প্রাসাদে রয়েছে ৭৭৫টি ঘর। এর মধ্যে নয়টি ঘর নিয়ে থাকেন রাণী স্বয়ং। প্রাসাদ সংলগ্ন বাগান এবং পথগুলোরও রক্ষণাবেক্ষণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সেটা বিপুল খরচ সাপেক্ষ।
এবার বাকিংহাম প্যালেসের যাবতীয় ওয়্যারিং এবং পানির সংযোগ ব্যবস্থাও বদলানো হবে। না হলে এখানে সেখানে ছেঁড়া তার বের হয়ে পড়া কিংবা টুপটাপ করে এখান সেখান দিয়ে পানি পড়াটা রাজপ্রাসাদের জন্য দৃষ্টিকটু বটে। পুরনো সব অ্যাসবেসটস বদলে ফেলা, নতুন করে সাজানোসহ বিরাট এক সংস্কার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। যার আনুমানিক খরচ ১৫১ মিলিয়ন পাউন্ড। তাও সেটা প্রাথমিক হিসেব। প্রতিটি ঘর ধরে পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব করলে অঙ্কটা আরও বেশি হওয়ারই সম্ভাবনা।
সে ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের মত, পুরো প্রাসাদের মেরামতি একসঙ্গে হলে খরচ কিছুটা কমানো যাবে। কিন্তু তা না করে, প্রাসাদের বিভিন্ন অংশ ভাগে ভাগে সারাইয়ের কাজ করলে খরচ আরও বাড়বে।
মেরামতের জন্য প্রাসাদ খালি করা হলে রয়্যাল হাউসহোল্ডের ৪২৬ জন কর্মীকেও সরিয়ে দিতে হবে। তবে তাদের কাউকেই বরখাস্ত করা হবে না বলে প্যালেস সূত্রে আশ্বাস দেয়া হয়েছে। রাণী ও ডিউক ফিরে না আসা পর্যন্ত তাদের অন্য কোথাও নিয়োগ করা হবে।
তবে চিন্তা একটাই। প্রাসাদ ফাঁকা করে সংস্কার করার মানে হচ্ছে অন্তত একটা মৌসুম দর্শনার্থীদের কাছে প্রাসাদের দরজা বন্ধ থাকা। যার ফলে টিকিট বিক্রির মোটা আয় সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এমনিতেই প্রাসাদ সংস্কারের বিপুল ব্যয় নিয়ে চিন্তায় বাকিংহাম। তার উপর আয় কমে গেলে সমস্যা আরও জটিল হবে। সে জন্যই কিছুটা দ্বিধায় রয়েছেন কর্মকর্তারা।