পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, বিকল্প বাস্তবসম্মত উপায় বের না করে পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম টেকসই করা সম্ভব নয়। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে সনাতন পদ্ধতির ইটভাটা আইনত নিষিদ্ধ। কিন্তু পরিবেশ সম্মত ইট উত্পাদন করাও সম্ভব নয়। কারণ নীতিমালায় এমন সব শর্ত রয়েছে যা মেনে আধুনিক প্রযুক্তির ইট উত্পাদন করা সম্ভব নয়।
আসন্ন ৭ম পঞ্চ বার্ষিক পরিকল্পনার উপর খাতভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল শেরে বাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে ৭ম পঞ্চ বার্ষিক পরিকল্পনা দলিলে পরিবেশ ও তথ্য প্রযুক্তি খাত নিয়ে পরামর্শ সভার আয়োজন করে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। বিশেষ অথিতি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ৭ম পঞ্চ বার্ষিক পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন জিইডি সদস্য ড. শামসুল আলম।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, সরকারি প্রায় সকল রাস্তা ইট ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব করতে হলে আগে সরকারি স্থাপনায় পরিবেশ সম্মত ব্লক ব্যবহার শুরু করতে হবে। বিকল্প পরিবেশ সম্মত ইট উত্পাদন না করে প্রচলিত ইটভাটা বন্ধ করে দিলে উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, আমরা গুলশান-বারিধারার লেক দূষণে পদক্ষেপ নিয়েছিলাম কিন্তু সেটিও টেকসই করা যায়নি। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ হয়নি।
সভাপতির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে প্রথম বিপ্লব ছিল মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন। দ্বিতীয় বিপ্লব ছিল বিদ্যুত্ আবিষ্কার এবং ইলেট্রনিক পণ্য ও সেবার উন্নয়ন। তৃতীয় বিপ্লব হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লব। বর্তমানে আমরা এই বিপ্লবের যুগে বাস করছি। পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, আমরা বিগত ২৪ বছরে প্রায় ২৬ শতাংশ জমি লবণাক্ততার কারণে হারিয়েছি। আমাদের এ জমি উদ্ধার করে আবারো ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, আগামী ১৫-২০ বছরের মধ্যে সব কাজ করা হবে প্রযুক্তির মাধ্যমে। জমিতে হাল দেয়া থেকে শুরু করে বীজ বপন, ফসল কাটা সবই করবে মেশিন।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ৭ম পঞ্চ বার্ষিক পরিকল্পনায় আইসিটি খাতের উন্নয়নে নেয়া পরিকল্পনায় বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, প্রাথমিক শিক্ষা, হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, সকলের মতামত নেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, দেশে তথ্য প্রযুক্তি খাতে নেয়া প্রকল্পগুলোর বেশিরভাগ বিদেশি সহায়তানির্ভর, তাই তাদের শর্তও বেশি। এখাতে উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দের অংশ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে পরিবেশ সচিব কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ৬ষ্ঠ পঞ্চ বার্ষিক পরিকল্পনায় দেশের মোট ভূমির ২০ শতাংশ বনভূমি করার লক্ষ্য ছিলো; কিন্তু করা সম্ভব হয়েছে মাত্র ১৩ ভাগ। তবে সার্বিক বিবেচনায় এটি আমাদের ভালো অর্জন। তিনি বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় যথাযথ আইন প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না প্রভাবশালীদের জন্য।
কম্পিউটার সমিতির সাবেক সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, শেখ হাসিনা ২০০৮ সালেই ডিজিটাল বাংলাদেশ আর ২০১৪ সালে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন; যা অনেক দেশে এখন অনুকরণ করছে। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে প্রতিটি ঘরে প্রতি গ্রামে ইন্টারনেট সেবা এবং জ্ঞানভিত্তিক শ্রম শক্তি গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের প্রতিনিধি জেকে বড়াল বলেন, এ ধরনের পঞ্চ বার্ষিক দলিল আগেও তৈরি হয়েছিলো কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বুয়েটের উপাচার্য খালেদা একরাম বলেন, প্রযুক্তিকে টেকসই করতে হলে এ খাতে দক্ষ শিক্ষক গড়ে তুলতে হবে। বুয়েটের অধ্যাপক সারোয়ার জাহান বলেন, টেকসই লক্ষ্য অর্জনের জন্য কারিগরি প্রযুক্তি প্রয়োগ বাড়াতে হবে। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মিজান খান বলেন, একই সাথে টেকসই লক্ষ্য অর্জন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন করা সম্ভব হয় না। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রফিকুজ্জামান বলেন, ৭ম পঞ্চ বার্ষিক পরিকল্পনায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নে কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এদেশে আইসিটি খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সম্ভাবনা রয়েছে যা পরিকল্পনায় যুক্ত করা প্রয়োজন।