বাংলাদেশ এখন গোটা বিশ্বের কাছে উন্নয়নের মডেল

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, একসময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বলেছিলেন-বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি, এখানে যতোই সাহায্য দেয়া হোক না কেন, লাভ হবে না। সেই বাংলাদেশ আজ নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে। যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশগুলো একসময় উন্নয়নের পরীক্ষামূলক দেশ হিসেবে দেখতো, সেই দেশ আজ উন্নয়নের মডেল। গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।

 
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘কষ্ট লাগে খালেদা জিয়ার জন্য, তিনি ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেননি। শনিবার একটি ইফতার অনুষ্ঠানের মোনাজাতে তিনি বললেন, এই সরকারের ওপর যেন গজব নাজেল হয়। কত নীচু মানসিকতার মানুষ হলে এমন মন্তব্য করা যায়। এই নেত্রী দম্ভ করে বলেছিলেন— এই সরকারের পতন না ঘটিয়ে তিনি ঘরে ফিরবেন না। সবাই দেখল, আদালতে আত্মসমর্পণ করে তিনি ঘরে ফিরে গেলেন।
 
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন মাথাপিছু আয় প্রায় চার হাজার ডলার। বিশ্বব্যাংকও বলেছেন, ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হবে। এখানকার অর্থনীতির সব সূচকই ঊর্ধ্বমুখী। যখন সাড়ে ৭ কোটি মানুষ ছিল, তখন এখানে খাদ্য ঘাটতি ছিল। এখন সাড়ে ১৬ কোটি মানুষ অথচ আমরা খাদ্য রপ্তানি করতে শুরু করেছি। যেখানে আগে কোনো রিজার্ভ ছিল না, এখন সেই রিজার্ভ ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বঙ্গবন্ধুর মতো শেখ হাসিনাও লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব।
 
বাণিজ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে তৈরি পোশাকের রপ্তানিতে উেস কর এক শতাংশ থেকে কমিয়ে ‘সহনীয় হারে’ নির্ধারণের জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ইউরোর দাম কমে যাওয়ায় পোশাক শিল্পের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত। আগে যে ইউরোর দাম ছিল ১০৫ টাকার মতো, এখন তা মাত্র ৮৭/৮৮ টাকা। ৮১ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয় এই খাত থেকে। সেজন্য এই খাতের প্রতি আমাদের আরো সহনশীল হওয়া উচিত। ওষুধ, জাহাজ, ফার্নিচার ও লেদারসহ কয়েকটি পণ্যে আমরা বেশি জোর দিচ্ছি। এসব পণ্য রপ্তানিতে কিছু সুবিধা দেয়া হলে রপ্তানি আয় ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। দেশিয় শিল্পের বিকাশে পণ্য আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মন্ডের ওপর ডিউটি কমিয়ে, কাগজের ওপর ডিউটি বাড়িয়েছিলাম। সেজন্য এখন আমাদের কাগজ শিল্প স্বয়ংসম্পূর্ণ। পোল্ট্রি শিল্পকে ট্যাক্স-হলিডের আওতায় আনা দরকার।’
 
‘খালেদা নির্বাচনের
 
অযোগ্য হতে পারেন’
 

বাজেট আলোচনায় খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনের এমপি এসএম আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এক নেত্রী ইফতারের সময় বলেছেন-আল্লাহ যেন জালেমের হাত থেকে মজলুমকে রক্ষা করেন। তিনি বললেন, এই সরকার নাকি নির্বাচিত নয়। যদি তা না হয়, তাহলে সিপিএ, আইপিইউসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ কীভাবে প্রতিনিধিত্ব করছে। আপনি নির্বাচনকে ভয় পেয়েছেন বলে বর্জন করেছেন। আগামী নির্বাচনে আসুন। তবে এর আগেই আদালত থেকে আপনি নির্বাচনের অযোগ্য হয়ে যেতে পারেন।’ বিএনএফ চেয়ারম্যান বলেন, রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে অনেক জায়গা। এমপিরা বনানীতে যে প্লট চাচ্ছেন, এই বস্তি উচ্ছেদ করে সেই দাবি বাস্তবায়ন করা সম্ভব।