কোকেন যাচ্ছিল ভারতে

চট্টগ্রামে ভোজ্যতেলের কন্টেইনারে কোকেন পাচারের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরো তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন— মোস্তফা কামাল, তার ভাতিজা আতিকুর রহমান এবং একে আজাদ। গতকাল মঙ্গলবার শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের পৃথক অভিযানে তাদের রাজধানী থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে কোকেন পাচারের ঘটনায় চারজন গ্রেফতার হলেন।

 
মোস্তফা কামাল ও আতিকুর রহমানকে গ্রেফতারের পর দুপুরে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আয়োজন করা হয়। তবে কসকো শিপিং লাইন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (করপোরেট,  বিক্রয় ও বিপণন) একে আজাদকে গ্রেফতারের বিষয়ে সংস্থাটি বিস্তারিত কিছু জানায়নি। এক মোবাইল বার্তায় শুল্কগোয়েন্দা বিভাগ শুধুমাত্র তাকে গ্রেফতারে বিষয়টি জানায়।
 
সংবাদ সম্মেলনে অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মঈনুল খান বলেন, গার্মেন্টস পণ্য রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মণ্ডল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী আতিকুল ইসলাম। ওই প্রতিষ্ঠানের উত্তরার কার্যালয় থেকে গতকাল সকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুলশান-১ এর মোড় থেকে তার চাচা একটি ডেভেলপার কোম্পানির কর্মকর্তা মোস্তফাকে আটক করা হয়।
 
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে মোস্তফা কামালের এক কাজিন মোহাম্মদ বকুল যুক্তরাজ্যে থাকেন। তার গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারে। মোস্তফাকে ওই কন্টেইনারটি ভারতে পুনরায় রপ্তানির করার জন্য বলেছিলেন বকুল। মোস্তফা তখন কন্টেইনারটি ভারতে রপ্তানির জন্য আতিকুলের কাছে যান। এই প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য রাজু নামে এক ভারতীয় নাগরিকের চট্টগ্রামে আসার কথা ছিল। তার যেদিন আসার কথা, ওইদিনই শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের একটি টিম অভিযান চালায়। যে কারণে রাজু আর আসেননি।
 
ড. মঈনুল খান বলেন, মোস্তফা কামাল ও আতিকুল দুজনই টাকার বিনিময়ে এ কাজ করতে চেয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে আরো অনেক তথ্য বের হয়ে আসবে।
 
তিনি আরো বলেন, বিসিএসআইআর ও বাংলাদেশ ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে তরলের নমুনা পরীক্ষায় বলিভিয়া থেকে আসা একটি ভোজ্যতেলের কন্টেইনারে কোকেনের অস্তিত্ব থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে কি পরিমাণ কোকেন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে কন্টেইনারে থাকা ৯৬ নম্বর ড্রামের ১৮৫ কেজি ভোজ্যতেলের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ তরল কোকেন।
 
মহাপরিচালক আরো বলেন, ড্রামে কোকেনের পরিমাণ বের করার জন্য আমরা এনবিআরের মাধ্যমে ইউএনওডিসির আঞ্চলিক কার্যালয় ভারতে একটি চিঠি পাঠিয়েছি। ইউএনওডিসি থেকে একটি দল এসে তেলে কোকেনের নমুনা সংগ্রহ করবে এবং তারা তা পরীক্ষা করে কোকেনের কোয়ালিটি ও কোয়ান্টিটি সম্পর্কে আমাদের জানাবে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক ড্রাগ ডিলারদের হাত রয়েছে। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ড্রাগ ডিলারদের এজেন্টদের অনেকের নাম জানা গিয়েছে। যাচাই-বাছাই করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 
গ্রেফতারকৃতদের পুলিশের হস্তান্তরের ব্যাপারে ড. মঈনুল খান বলেন, কিছু আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। আমরা তাদের আরো জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করব।
 
নূর মোহাম্মদকে খুঁজছে পুলিশ:
 
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, কোকেন পাচার মামলার অন্যতম আসামি খান জাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদকে খুঁজছে মহানগর ডিবি পুলিশ। গতকাল নূর মোহাম্মদের সন্ধানে তার অফিস ও বাসাসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় অভিযান চালায় পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই মামলার আরেক আসামি প্রাইম হ্যাচারির ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা সোহেলকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে মহানগর হাকিম ফরিদ আলম রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। তবে রিমান্ডে নিলেও সোহেলের আনুষ্ঠানিক জিজ্ঞাসাবাদ এখনো শুরু হয়নি বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিএমপির সহকারি কমিশনার (ডিবি) কামরুজ্জামান গতকাল সন্ধ্যায় ইত্তেফাককে জানান। গত সোমবার কোকেন উদ্ধারের মামলায় সোহেলকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে আদালত। 
 

উল্লেখ, গত ৮ জুন চট্টগ্রাম বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ডে সূর্যমুখী তেল ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা তরলের একটি কন্টেইনার আটক করা হয়। বলিভিয়া থেকে আমদানি করা এই কন্টেইনারটিতে ১০৭টি ড্রাম ছিল যার প্রতিটির ওজন ১৮৫ কেজি। এসব ড্রামে তরল কোকেন রয়েছে, পুলিশের দেয়া এমন তথ্যের ভিত্তিতে কন্টেইনারটি আটক করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। আটক কন্টেইনার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর প্রাথমিকভাবে সেখানে কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া না গেলেও পরবর্তীতে উন্নত পরীক্ষার পর একটি ড্রামে তরল কোকেনের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হন শুল্ক গোয়েন্দারা। এ ঘটনায় ২৮ জুন চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর থানায় এসআই ওসমান গণি বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলায় খান জাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ ও সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রাইম হ্যাচারির ম্যানেজার মো. গোলাম মোস্তফা সোহেলসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করা হয়।