ইন্দোনেশিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১১০

ইন্দোনেশিয়ায় একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১১০ জন নিহত হয়েছে। তবে দেশটির কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, বিমানে থাকা সবাই নিহত হয়েছেন। বিমানটিতে মোট ১১৩ জন আরোহী ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার সুমাত্রা দ্বীপের মেডান শহরে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

 
হারকিউলিস সি-১৩০বি নামের বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে দুটি বাড়ি এবং একটি হোটেলের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এরপর সেটিতে আগুন ধরে যায়। বিমানটিতে ১২ জন ক্রু ও ১০১ জন যাত্রী ছিলেন। বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল অগাস সুপ্রিয়াটনা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ধারণা করা হচ্ছে, বিমানে থাকা ১১৩ আরোহীর কেউই আর বেঁচে নেই। ৫৫ টি মৃতদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে রাখা হয়েছে। বাকিদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিমানটির লেজ খুঁজে পাওয়া গেলেও বাকি সব অংশ পুড়ে ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনেকেই বিমানের ধ্বংসাবশেষের নীচে চাপা পড়েছেন।
 

বিমানে অনেক যাত্রী ছিলেন যারা সংস্থাটির কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্য। অর্ধশতাব্দী আগে বিমানটির যাত্রা শুরু হয়। প্রথমদিকে কর্মকর্তারা বিমানটিতে ১২ জন আরোহী থাকার কথা জানিয়েছিলেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হাসপাতালে ইতোমধ্যে ৫৫টি মৃতদেহ পাঠানো হয়েছে। মেডানের অনুসন্ধান ও উদ্ধার বিভাগের প্রধান রোমালি বলেছেন, উদ্ধার অভিযানে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা মৃতদেহ উদ্ধার করেছি এবং আশা করি আজ রাতের মধ্যেই উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করতে পারবো। বিমানটি সুমাত্রার মেডান বিমান ঘাঁটি থেকে রিআউয়ের তানজু পিনাংয়ে যাচ্ছিল। দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে পাইলটকে ঘাঁটিতে ফিরে আসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি আসেননি। কাছের গোল্ডেন ইলেভেন হোটেলের অভ্যর্থনার দায়িত্বে থাকা এলফ্রিদা এফি বলেন, কিছু সময় বিমানটি উপরে ঘুরছিল। এরপর সেটি একটি হোটেলের ছাদে গিয়ে পড়ে বিধ্বস্ত হয়। এভিয়েশন সেফটি নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, গত দশকে ইন্দোনেশিয়ার সামরিক এবং পুলিশ বাহিনীর ১০টি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে।