ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের ভোট কেন্দ্রে সাংবাদিকদের নাজেহাল ও দায়িত্ব পালনের বাধাদানের ঘটনায় কাউকেই চিহ্নিত করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠিত তদন্ত কমিটি। তবে তাদের সুপারিশে ‘শিক্ষানবিশ’ সাংবাদিকদের ভোট কেন্দ্রে না পাঠানো ও সাংবাদিকদের ‘নির্বাচনী আইন ও বিধি’ সম্পর্কে পর্যাপ্ত ‘জ্ঞান থাকা’ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও ২৮ এপ্রিল ভোট গ্রহণের দিনে রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রবেশের সময় নাজেহাল ও হামলার শিকার সাংবাদিকদের বেশিরভাগই ছিলেন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের বিশেষ প্রতিনিধি ও সিনিয়র রিপোর্টার।
কমিটির আহ্বায়ক ঢাকার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. আনিছুর রহমান ২৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন গত মঙ্গলবার ইসি সচিব মো:সিরাজুল ইসলামের কাছে জমা দেন। সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের শুনানির কাগজপত্র মিলিয়ে ৩৪০ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট রয়েছে বলে ইসি সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে। তবে চট্টগ্রামের ঘটনা তদন্ত পৃথক কমিটি এখনও প্রতিদেবন জমা দেয়নি।
কমিটি সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ঘটনা যে ঘটেছে—সেটা নিশ্চিত হওয়া গেলেও পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে দোষীদের চিহ্নিত করা যায়নি। কমিটির সুপারিশে ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপের কথা বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গতকাল কমিটির আহবায়ক আনিছুর রহমান বলেন, পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ জোগাড় করতে না পারায় কমিটির রিপোর্টে আক্রমণকারীদের কাউকে চিহ্নিত করা হয়নি। এব্যাপারে সাংবাদিকরা সাক্ষ্য দিতে আসলেও তারা কোন প্রমাণ জমা দেয়নি। কমিটির পক্ষ থেকে শিক্ষানবীশ সাংবাদিকদের কেন্দ্রে না পাঠানোর সুপারিশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাংবাদিকতা পেশাকে আঘাত বা অসম্মান করতে এসব সুপারিশ করা হয়নি। ভোট কেন্দ্র একটি স্পর্শকাতর স্থান। সেখানে সবাইকেই দায়িত্ববোধের পরিচয় দেয়া উচিত।
ইসিতে জমা দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—পুলিশ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের অস্বীকার ও সাংবাদিকদের যথাযথ তথ্য উপস্থাপনে ব্যর্থ হওয়ায় অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি। দীর্ঘ দু’মাস ধরে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী বিভিন্ন পেশার প্রায় একশ ব্যক্তির শুনানি গ্রহণ করেছে তদন্ত কমিটি।
সাংবাদিকদের লিখিত অভিযোগ যথাযথ ও পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত না হওয়ায় ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধাদান অথবা নাজেহাল করার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বা কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করা যায়নি।
তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির ৩০টি কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটা নিশ্চিত ছিল যে, বাধা-নাজেহালের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু তদন্ত কমিটি নির্ধারিত কর্মপরিধি মেনে কাজ করতে গিয়ে সাক্ষ্য, স্থিরচিত্র, ভিডিও কিংবা অন্য কোনো প্রমাণ পায়নি। ফলে সত্য উদঘাটনই দুস্কর হয়ে পড়েছে। শুনানিতে কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, পুলিশ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পর্যবেক্ষক কেউই সাংবাদিকদের বাধা-নাজেহালের ঘটনা স্বীকার করেননি। সাংবাদিকরা সাক্ষ্য দিতে এসে বাধা-নাজেহালের বিষয়টি জানিয়েছেন।
কমিটির সুপারিশে আরো বলা হয়েছে—নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় সাংবাদিকদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করার অবাধ সুযোগ থাকা বাঞ্চনীয়। এক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নির্বাচনী আইন-বিধি সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে। শিক্ষানবীশ সাংবাদিকদের ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে পাঠানো সঙ্গত হবে না। ইসি সাংবাদিকদের যে ‘সাংবাদিক কার্ড’ দেয় তাতে আরো স্বয়ং সম্পূর্ণভাবে নির্দেশনা দিতে হবে। ভোটের দিন ‘ভোটকেন্দ্রের প্রবেশাধিকার’-এর বিধানটি কঠোরভাবে অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করা জরুরি। তা নিশ্চিত করা গেলে ভোটকেন্দ্র দখল বা দখল পরবর্তী জটিলতা, সাংবাদিকদের ছবি তোলার বিড়ম্বণা অনেকাংশে কমবে।
এ বিষয়ে ইসি কার্যালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়া গেছে। রিপোর্ট কমিশন সভায় উত্থাপনের আগে তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।