পিকেএসএফ-এর জলবায়ু বিষয়ক কর্মশালায় বক্তারা

জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবেলায় উন্নত বিশ্বের অঙ্গিকার রক্ষার প্রবণতা কম

 
 
জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবেলায় উন্নত বিশ্বের অঙ্গিকার রক্ষার প্রবণতা আশাব্যঞ্জক নয়। ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলো ঝুঁকি মোকাবেলা করতে চাপে পড়ে যায়।
 
বৃহস্পতিবার পিকেএসএফ-এর চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ-এর সঞ্চালনায় ক্লাইমেট ফাইনান্সিং বিষয়ে এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
 
সেমিনারে আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের উপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিকেএসএফ-এর জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমাদ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল করিম, ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্টের সচিব রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ।
 
ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমাদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন কনভেশনের আওতায় ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য তহবিল, বিশেষ জলবায়ু পরিবর্তন তহবিল, অভিযোজন তহবিল ও গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড গঠিত হলেও এসব তহবিলের অর্থায়নের প্রবাহ উল্লেখযোগ্য নয়। তাছাড়া এসব জলবায়ু তহবিলগুলোতে স্বল্পোন্নত দেশ তথা জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিপূর্ন দেশগুলোর অংশগ্রহণ অনেক কম।
 
তিনি বলেন, সম্প্রতি গঠিত গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ডে সাড়ে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানে উন্নত দেশগুলো অঙ্গীকার করেছে। এই অর্থ আগামী ৪ বত্সরে ব্যয় করা হবে। এই অর্থ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তাছাড়া গত ২০১০ সনের কানকুন সম্মেলনে উন্নত দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় ২০২০ সাল নাগাদ প্রতি বত্সর ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের যে অঙ্গীকার করেছিল, অদ্যাবধি তা প্রতিপালনের কোন লক্ষন দেখা যাচ্ছে না।
 
পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল করিম বলেন, বাংলাদেশ অন্যতম জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকা একটি দেশ। জলবায়ু পরিবর্তন জনিত অভিঘাত সফলভাবে মোকাবেলা করতে জলবায়ু অর্থায়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ সফলভাবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সকল উত্স থেকে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে আমাদের সামর্থ্য বৃদ্ধি করতে হবে।
 
অনুষ্ঠানে ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্টের সচিব রাশেদুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে তহবিল গঠন করা বিশ্বে অন্যন্য দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশ শুধু উন্নত দেশ থেকে অর্থ পাওয়ার জন্য না তাকিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত অভিঘাত মোকাবেলায় কাজ করছে। গত ৭টি অর্থ বত্সরে সরকার জাতীয় বাজেটের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তে ট্রাস্ট ফান্ডে অর্থ প্রদান করেছে। উক্ত অর্থায়ন দ্বারা প্রধানত জলবায়ু পরিবর্তন জনিত অভিযোজন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
 
আলোচনার শেষ পর্যায়ে পিকেএসএফ-এর চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জলবায়ু অর্থায়নের পরিমাণ আশাব্যঞ্জক না হলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ আন্তর্জাতিক অর্থায়নের জন্য আমাদের সোচ্চার হতে হবে। জলবায়ু অর্থায়ন প্রাপ্তির বিষয়টি আমাদের অধিকার এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়ন প্রাপ্তিতে আমাদের সামর্থ্য বৃদ্ধির বিষয়টির প্রতিও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।