গ্রিস ছেড়ে পালাচ্ছে তরুণরা

 
গভীর সঙ্কটে পতিত গ্রিসের তরুণরা দেশটির ভবিষ্যত এখন অন্ধকার দেখছে। আর সেজন্য তারা এখন দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
 
২১ বছরের তরুণ দানি আইয়োরদাকের বক্তব্য, ‘গ্রিসে আমি কোনো ভবিষ্যৎ দেখি না।’ হাতে উল্টি আঁকা এই তরুণের হতাশামূলক বক্তব্যের যথাযথ কারণও আছে।  মা ফি দিতে পারায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
 
তিনি বলেন, আমার দেশটা সত্যিই সুন্দর। কিন্তু এখানে দিনের পর দিন সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার কথা কল্পনাও করতে পারছি না।
 
গ্রিসের সম্প্রদায়ের মধ্যে বেকারত্ব প্রায় ৫০ শতাংশ। ২০১০ সাল থেকে অর্থনৈতিক সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে সেখানে দুই লক্ষাধিক তরুণ-তরুণী দেশ ছেড়েছে। খুব কম মানুষই চাকরি পাচ্ছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে।
 
দানির মতো আরেক তরুণ ক্রিসতোস পেনোজ (৩২)। বিজ্ঞান ক্ষেত্রে কাজের অভাব থাকায় তিনি ২০১৩ সালে নরওয়ে পাড়ি জমান। সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে কাজ করছেন।
 
তার ভাষ্যে, আমার ভাই স্পেনে থাকে। বন্ধুদের অনেকে জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, ফ্রান্স ও পোল্যান্ডে থাকে।
 
দেশের প্রতি টান থাকলেও এখন সেখানে যাওয়া আর আশা দেখছেন না পেনোজ। তিনি বলেন, আমি প্রথমে ভেবেছিলাম নরওয়েতে দুই থেকে তিন বছর থাকব। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে,  আমি এখানেই থাকব। যদিও তিনি উল্লেখ করেছেন যে দেশের সূর্য ও খাবারের কথা মনে পড়ে তার।
 
যতই দিন যাচ্ছে গ্রিসের সঙ্কট গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। রাস্তার ধারে বেঞ্চে বসে স্যান্ডউইচ ও বিয়ার খেতে খেতে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করছিলেন দুই বন্ধু মেরিলেনা ও জোসি।
 
ফিজিওথেরাপিস্ট জোসি পূর্ণকালীন কোনো কাজ পাচ্ছেন না। অর্থ উপার্জনের জন্য তাকে শিশুদের পরিচর্যা ও পরিচ্ছন্নতার কাজও করতে হয়।
 
তিনি বলেন, আর্থিক সংকট শুরুর আগে এসব কার হকে এক হাজার ৪৪০ ডলার পেতাম। কিন্তু এর অর্ধেকও পাই না।
 
জোসির ছেলে বন্ধু সিরিয়া থেকে আসা এক অভিবাসী যে এখন নেদারল্যান্ডসে থাকেন। সেখানেই চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন জোসি।
 
মেরিলেনার ভাই জার্মানিতে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। সেখানে চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন তিনি। তার ভাইয়ের বেতন দুই হাজার ইউরো।
 
গ্রিসের থেসালনিকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লুই ল্যাবরিয়ানিদিস বলেন, সংকটের কারণে তরুণেরা এখন গ্রিস ছেড়ে পালাচ্ছেন। তিনি সেখানে তিনি সরকারের সহযোগিতায় বিনিয়োগ বাড়াতে চান।
 
আইএমএফের কাছ থেকে নেয়া দেড় বিলিয়ন ইউরো গত গত মঙ্গলবারের মধ্যে শোধ করার কথা থাকলেও ব্যর্থ হয় গ্রিস। পুঁজি নিয়ন্ত্রণ করতে দেশটির ব্যাংকগুলোকে এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছে।
 
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এই চুক্তির জন্য বিভিন্ন খাতে ব্যয়-সংকোচন করার কথা বলেছে দাতারা। তবে গ্রিস সরকার ঐ চুক্তির শর্তের কিছু সংশোধন চায়। চুক্তির শর্তে গ্রিস রাজি হবে কি হবে না সেই সিদ্ধান্তের ভার এখন দেশটির জনগণের উপর দেয়া হয়েছে। রবিবার এই বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। শেষ পর্যন্ত চুক্তি না হলে কাঙ্ক্ষিত ২৯ বিলিয়ন ইউরো ঋণ পাবে না গ্রিস। সূত্র: এএফপি।